
রংপুর ও রাজশাহী ব্যুরো
একটি মহল ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে একটি দল বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার ফলাফল ভালো হয়নি। এখন একটি মহল ২৪-এর জুলাই আন্দোলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। সেটাও জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না। বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে তাদেরকে সংসদে এসে বিতর্ক করারও আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল দুপুরে রংপুর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন শেষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কেউ ২৪-এর ছাত্র-জনতার যে গণ-অভ্যুত্থান, সেটিকে দয়া করে বিতর্কিত করবেন না। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে, যদি কিছু তুলে ধরার থাকে, আসুন আমরা সংসদে সেই বিতর্ক করি, রাষ্ট্রের পক্ষে যেটি ভালো হবে সেই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করি।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা অতীতের মতন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করি, যাতে করে জনগণের যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আছে, তাতে কোনোভাবে ব্যাঘাত না ঘটে। বর্তমানে জনগণ দেশে একটি স্থিতিশীলতা চায়, জনগণ চায় শান্তিতে থাকতে, জনগণ চায় নিরাপদে থাকতে এবং বর্তমান সরকার তার জন্যই কাজ করছে।
বিরোধী দলকে পাশে পাওয়ার আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই। এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ।’
যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি, সকলের জন্য এই সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে এই দেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়নি। কিন্তু আমরা সকল এলাকা বা সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
‘সকল এলাকার জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমভাবে হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সকল এলাকার উন্নয়ন আমরা সমানভাবে করতে চাই। সেই কারণেও রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য এরই ভেতরে একনেক মিটিংয়ে ১৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’
রংপুরের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘লোকাল গভর্মেন্টের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে দিয়ে আমরা রংপুর জেলার উপজেলাগুলোতে, গ্রামের মানুষের প্রয়োজনে যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার দরকার, ব্রিজ-কালভার্ট দরকার, স্কুল-কলেজ দরকার, সেগুলো ইনশা আল্লাহ আমরা পর্যায়ক্রমে গড়ে তুলব, যাতে মানুষ রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে একসাথে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
মুক্তিযুদ্ধের মতোই ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে ধর্ম বর্ণ সবাই মিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ঠিক একইভাবে দুই আড়াই বছর আগে। এই দেশের ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাঁধে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তাকে বিতাড়িত করেছে। আমরা দেখেছিলাম দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, প্রতিটি পেশার মানুষ সেই রাজপথে সেদিন নেমে এসেছিল তাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম-মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’ সবাইকে একসাথে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আজকে এই নবমীর দিনে আমার প্রত্যাশা থাকবে আসুন আমরা আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ করার জন্য একসাথে কাজ করি।
মতবিনিময় সভা উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ট্রাস্টের ট্রাস্টি স্বপন ভট্টাচার্য, মন্দির কমিটির সভাপতি পার্থ বোস প্রমুখ। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সকাল ১০টায় তিনি একটি বেসামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে সোয়া ১০টায় সবার আগে বাংলাদেশ লেখা বাসে করে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। সড়কের দুইপাশে হাজার হাজার মানুষ তাকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান। পাগলাপীরে পথসভায় তিনি সদর উপজেলা ক্যাম্পাস পাগলাপীরে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। ৩৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে তার লাগে ২ ঘণ্টারও বেশি। দুপুর ১২টায় পৌঁছান রংপুর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে। সেখানে তাকে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, ডিসি ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, এসপি মোজাম্মেল হকসহ মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মন্দিরে প্রবেশ করেই তিনি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরে তাকে দুর্গামায়ের মহিশাসুর বধের চিত্রনাট্য ও নৃত্য দিয়ে সম্ভাষণ জানানো হয়। মন্দিরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন। বেলা ১টার কিছু পরে তিনি মন্দির ত্যাগ করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ রওনা দেন। সেখান থেকে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশে বিমানে রওনা দেন।
রাজশাহীতে কর্মসংস্থান, কৃষি ও পানির সঙ্কট নিরসনে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষির উন্নয়ন, পানির সঙ্কট নিরসন ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের আরো ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
গতকাল বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় এসব পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় দেশের ১৫টি চিনিকল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারের বোতাম চেপে চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে সহায়তা, ফসলের বীমা, ব্যাংকঋণ এবং আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষির উৎপাদন ও কৃষকের সক্ষমতা বাড়াতে এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আর্থিকসহায়তা দেয়ার পাশাপাশি পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যা এবং ডায়ালাইসিসের সুবিধা চালুর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এতে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের পানিসঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চল এবং প্রায় ১৪টি জেলা উপকৃত হতে পারে এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেও জনসভায় এর নির্দিষ্ট সময়সীমা, অর্থায়ন ও কারিগরি পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাননি প্রধানমন্ত্রী।
নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় গুরুত্ব রিজভীর
জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজশাহীর বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল ও রেশম কারখানা আবার চালুর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজশাহীর পদ্মা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, নদীতে এখন পানির প্রবাহ নেই; আগের সেই পদ্মা আর নেই। তিনি বলেন, রাজশাহী কৃষিজমিতে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এখানে আখ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি চিনিকল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল ও রেশমশিল্পের সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো বন্ধ পড়ে আছে।
রাজশাহীর উন্নয়নে একগুচ্ছ দাবি ভূমিমন্ত্রীর
জনসভায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর উন্নয়নে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং শাহ মখদুম বিমানবন্দর আধুনিকায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি কৃষিপণ্য রফতানির সুযোগ সৃষ্টি, শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে রাজশাহীর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার শাসনামলে রাজশাহীকে ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে সাম্প্রতিক আন্দোলন পর্যন্ত রাজশাহীর মানুষের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভূমিমন্ত্রী।
৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা
দেশের ১৫টি চিনিকল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ করেছে সরকার। জনসভায় কম্পিউটারের বোতাম চেপে এ অর্থ চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কম্পিউটারে বোতাম চাপার কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষিদের অ্যাকাউন্টে সরকারের দেয়া সহযোগিতার অর্থ পৌঁছে যাবে। আখচাষিদের সহায়তায় বরাদ্দ দেয়া এ অর্থ আখ চাষে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পরে ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রণোদনার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন- আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মণ্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো: কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এ সময় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদান
রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজা উদযাপনে ১০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে এই টাকার চেক তুলে দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী পূজারিদের সাথে কুশলবিনিময় করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
পরে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। সভায় পূজা উদযাপনের জন্য একটি তহবিল গঠন ও মন্দির স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া এ বছর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের পক্ষ থেকে অধিক অনুদান ও সহযোগিতা দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী ধর্মসভার সভাপতি অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার, সহসভাপতি অচিন্ত কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ অশোক কুমার সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দেবনাথ, দফতর সম্পাদক আকাশ কুমার দাস, প্রচার সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক সুকুমার সরকার, মহেন্দ্র চন্দ্র সরকার ও সনৎ কুমার সাহা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- সহকোষাধ্যক্ষ দেবাশীষ রায় মধু, ধর্মসভা মন্দিরের পুরোহিত বিদ্যুৎ কুমার মজুমদার, সহকারী পুরোহিত মুয়াজ মজুমদার এবং সেবাইত ড. শিখা সরকার ও সমমিতা বিশ্বাস।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








