
মোস্তাফিজুর রহমান তারা রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি- ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ। নদীর দুই পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে এই সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অথচ বছরের পর বছর ধরে নানা সম্ভাবনা, সমীক্ষা ও দাবি-দাওয়ার আলোচনার মধ্যেই আটকে আছে এই অঞ্চলের লাখো মানুষের বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্ন।
ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল স্রোত, বর্ষাকালে ফেরি চলাচলের চরম অনিশ্চয়তা, শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয়া নাব্যতা সঙ্কট এবং নদীপথের নানা দুর্ভোগ পেরিয়ে প্রতিদিন অগণিত মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। প্রতিদিনের এই যাতায়াতে জরুরি রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে নদী পারাপার অনেক সময়ই এক ভয়াবহ দুর্ভোগের নাম হয়ে দাঁড়ায়। ব্রহ্মপুত্রের বুকে একটি সেতু নির্মিত হলে অবহেলিত এই জনপদের সুদীর্ঘ ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পুরো উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগে প্রতিনিয়ত নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। রৌমারী-চিলমারী পয়েন্টে সেতু নির্মিত হলে নদীর দুই পাড়ের যোগাযোগ অনেক বেশি সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হবে। একই সাথে কুড়িগ্রামসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য জেলার সড়ক যোগাযোগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নদী পারাপারের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের সময় ও অর্থ দু’টিই অতিরিক্ত ব্যয় হয়। বিশেষ করে হঠাৎ ফেরি চলাচল ব্যাহত হলে বা ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি হলে মানুষের ভোগান্তি পৌঁছায় চরম মাত্রায়। প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় অনেকাংশে কমে আসবে এবং পণ্য পরিবহন হবে অত্যন্ত সহজ।
জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নদীবেষ্টিত এই এলাকার মানুষের কাছে সময়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো মুমূর্ষু বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর কিংবা রংপুরে নিতে হলে নদী পারাপারের পরিস্থিতিতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা অনেক সময় জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটি সেতু থাকলে ২৪ ঘণ্টা নির্বিঘেœ অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিশ্চিত হবে, ফলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হবে। একইভাবে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের নিয়মিত যাতায়াতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা শিক্ষার প্রসার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারীর বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য, মাছ ও গবাদিপশু উৎপাদিত হয়। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা সময়মতো তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। নদী পারাপারের জটিলতা ও বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সেতু নির্মিত হলে কৃষকরা সরাসরি দেশের বড় বড় বাজারে নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করবে।
অতীতে একাধিকবার ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর এই সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হয়েছে এবং জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন দুই পাড়ের মানুষ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








