মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে এমপির স্পিডবোটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ
জাজিরার দুর্গম চরে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানিক দলের উপর জেলেদের হামলা : নয়া দিগন্ত।

 শরীয়তপুর প্রতিনিধি

Advertisement

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানিক দলের ওপর হামলা চালিয়েছে অবৈধ মৎস্য শিকারীরা। গত সোমবার সকালে পালেরচর ইউনিয়নের দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামকে বহনকারী স্পিডবোট লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আকস্মিক এই হামলায় অভিযানকারী দলের দুই সদস্য সামান্য আহত হন। তবে চালক ও নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় সংসদ সদস্যসহ সবাই অক্ষত ও নিরাপদে রয়েছেন।
মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সোমবার ভোর চারটা থেকে পদ্মা নদীর জাজিরা অংশে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সকাল ৯টার দিকে অভিযানকারী দলটি দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় পৌঁছালে একদল সংঘবদ্ধ অবৈধ জেলে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আক্রমণকারীরা সরাসরি সংসদ সদস্যের বহনকারী স্পিডবোটকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানকারী দল কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়। খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত নৌপুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং যৌথভাবে অভিযান জোরদার করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতার মুখে হামলাকারী জেলেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। সোমবার ভোর থেকে চলা দীর্ঘ এই অভিযানে যৌথ বাহিনী ৪০ জন জেলেকে আটক করতে সক্ষম হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে মাঝেমধ্যে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনোভাবেই কাউকে মা ইলিশ শিকার করতে দেয়া হবে না। একটি চক্র বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ পদক্ষেপে তা শক্ত হাতে দমন করা হয়েছে।