মানহীন কীটনাশকে ঝুঁকিতে ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য
  •  চার মাসে ১০ প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যাচের বালাইনাশক প্রত্যাহার
  •  নির্বিচার ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে উপকারী পোকা

ফসল রক্ষা কিংবা বেশি ফলনের আশায় জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেন কৃষক। কিন্তু সেই কীটনাশকই এখন ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। মানহীন বালাইনাশক ব্যবহার করেও কাক্সিক্ষত ফল পাচ্ছেন না কৃষক। অন্য দিকে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত বিরতিকাল না মানায় বাড়ছে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে শঙ্কা। নির্বিচার কীটনাশক প্রয়োগে ধ্বংস হচ্ছে ক্ষতিকর পোকা দমনে ভূমিকা রাখা উপকারী পোকামাকড়ও। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর পোকার প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাসায়নিক পরীক্ষায় মান সন্তোষজনক না হওয়ায় সাতটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যাচের বালাইনাশক বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানহীন পণ্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি ও নিরাপদ বিকল্পের ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
১৮ অক্টোবর ডিএইর উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং থেকে জারি করা পৃথক চিঠিতে সাতটি কৃষি উপকরণ প্রস্তুতকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের নির্দিষ্ট ব্যাচের বালাইনাশক সাত কর্মদিবসের মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে প্রত্যাহার করা পণ্যের পরিমাণ উল্লেখসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বালাইনাশক অধ্যাদেশ ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের বাজার তদারকি এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনকে প্রত্যাহার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য নির্দেশনার অনুলিপি দেয়া হয়েছে।
প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে শারিফ ট্রেড সংস্থা প্রাইভেট লিমিটেডের শারিদান ১০জি (নিবন্ধন নম্বর এপি-২৯৬১, ব্যাচ জজঝ০৪০৩), জেনেটিকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জিন-জয়েট ৫ ডব্লিউডিজি (এপি-২৬০৯, ব্যাচ ১৮১১২৪), স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির কাযিম ৮০ ডব্লিউজি (এপি-৫০২২, ব্যাচ ৬ঋ০০০৭৬ ও ৬এ০২১৪৪), নাসা কেয়ার লাইফ লিমিটেডের নিদান ১০ জি (এপি-৬৩৪২, ব্যাচ ৪১৯৪৬৪), ভাইরন অ্যাগ্রো লিমিটেডের নিভা ৯৫ এসপি (এপি-৬৮৭৪, ব্যাচ ০১০৫২৬), দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের ডেভিজিনন-১৪ জি (এপি-৭৭৫, ব্যাচ ২০০২২৬) এবং সুপার অ্যাগ্রো কেয়ারের সুরমা প্লাস ৪০ ডব্লিউজি (এপি-৫৪৯৮, ব্যাচ ২৯৮০৮০)।
প্রত্যাহার হওয়া এই সাত কোম্পানির তালিকাভুক্ত কয়েকটি বালাইনাশক ধান, আলু ও চায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের বালাই দমনে ব্যবহৃত হয়। শারিদান ১০জি ধানের বাদামি গাছফড়িং ও ডেভিজিনন-১৪ জি আলুর কাটুই পোকা ও ধানের হলুদ মাজরা পোকা দমনে নিবন্ধিত। সুরমা প্লাস ৪০ ডব্লিউজি চায়ের হেলোপেলটিস পোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ফসল সুরক্ষার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এর আগে গত ২৩ জুন যশোরের কেশবপুর থেকে সংগৃহীত নমুনার ভিত্তিতে এমএস সুইট অ্যাগ্রোভেট লিমিটেডের ‘ইটি গোল্ড ৪০ ডব্লিউজি’ (এপি নম্বর ৩৫০৫, ব্যাচ ১০ঢখ৪০ইঠ) এবং এমএস এসকিউ নাফিস ক্রপ কেয়ার লিমিটেডের ‘কাজেবিন ৫০ ডব্লিউডিজি’ (এপি নম্বর ৫২৭৭, ব্যাচ ০০১২০২৪)-এর রিপ্যাকিং করা সব বালাইনাশক বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়। একই নির্দেশনায় ঠাকুরগাঁও সদর থেকে পাঠানো নমুনার ভিত্তিতে এমএস পারতাপ অ্যাগ্রো ইন্টারন্যাশনালের ‘পারতাপ ৯৫ এসপি’ (এপি নম্বর ৬৫৮৬, ব্যাচ ঘজচঐঝ৬৮) প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। এ ছাড়া যশোরের চৌগাছা থেকে পাঠানো নমুনার ভিত্তিতে এমএস অ্যাকটিভ ক্রপ কেয়ার লিমিটেডের ‘অ্যাকটিবিন ৩২.৫ এসসি’ (এপি নম্বর ৭৫১৫, ব্যাচ ২০২৫১২১০৯)-এর রিপ্যাকিং করা সব বালাইনাশক বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় ডিএইর সংশ্লিষ্ট উইং।
অকার্যকর বালাইনাশকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়
কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, বালাইনাশকে সক্রিয় উপাদানের ঘাটতি কিংবা ফর্মুলেশনে ত্রুটি থাকলে প্রত্যাশিত মাত্রায় পোকা ও রোগ দমন নাও হতে পারে। এতে কৃষককে একই পণ্য বারবার প্রয়োগ করতে হতে পারে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফসলের কাক্সিক্ষত সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। সময়মতো বালাই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ফলনহানির আশঙ্কাও বাড়ে। পাশাপাশি দুর্বল কার্যকারিতার বালাইনাশক ব্যবহারে ক্ষতিকর পোকার প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. নির্মল কুমার দত্ত সম্প্রতি বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যদের এক কর্মশালায় বলেন, রাসায়নিক কীটনাশকের প্রয়োজন এখনো রয়েছে, তবে এর অপব্যবস্থাপনা বড় সমস্যা। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের কৃষিতে রাসায়নিক কীটনাশকের যে অপব্যবস্থাপনা আছে, সেটি দূর করতে পারলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব।”
উপকারী পোকা ধ্বংস, হুমকিতে পরিবেশ 
কীটনাশকের নির্বিচার ব্যবহারে ক্ষতিকর পোকার পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে উপকারী পোকামাকড়ও। প্রকৃতিতে এমন অনেক পোকা রয়েছে, যেগুলো ক্ষতিকর পোকা খেয়ে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এসব উপকারী পোকা কমে গেলে প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতিকর পোকার বিস্তার ঠেকাতে কৃষক আরো বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এভাবে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের একটি চক্র তৈরি হয়।
কুমড়াজাতীয় ফসলে পোকার আক্রমণের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে জানান ড. নির্মল কুমার দত্ত। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পর থেকে দেশে ২৫টির বেশি নতুন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও নতুন পোকার অনুপ্রবেশসহ একাধিক কারণে এসব পোকার বিস্তার ঘটতে পারে। তাই নতুন পোকার আবির্ভাবকে শুধু কীটনাশকের অপব্যবহারের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অতিরিক্ত ও নির্বিচার রাসায়নিক প্রয়োগে মাটির উপকারী অণুজীব, কেঁচো, ব্যাঙসহ বিভিন্ন প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যাঙ ক্ষতিকর পোকামাকড় ও মশার লার্ভা খেয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
উচ্চঝুঁকির বালাইনাশক ও খাদ্যে অবশিষ্টাংশ 
কৃষিবিজ্ঞানী ও বালাইনাশক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আটটি ঝুঁকির মানদণ্ড বিবেচনায় দেশে ২৫ ধরনের উচ্চঝুঁকির বালাইনাশক শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি কীটনাশক, পাঁচটি আগাছানাশক, দু’টি ইঁদুরনাশক ও সাতটি ছত্রাকনাশক রয়েছে। এসব পণ্যের ঝুঁকি মূল্যায়ন, বিকল্প শনাক্তকরণ এবং ব্যবহার সীমিত বা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর এবং কার্যকর বিকল্প রয়েছে- এমন বালাইনাশক পর্যায়ক্রমে বাজার থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তবে বিকল্প নিশ্চিত না করে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বালাইনাশক হঠাৎ বন্ধ করলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। উচ্চঝুঁকির আগাছানাশক প্যারাকোয়াটের বিষক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এটি গ্রহণের পর জীবন রক্ষার কার্যকর চিকিৎসা কঠিন হতে পারে। তাই ঝুঁকি ও বিকল্পের প্রাপ্যতা বিবেচনায় নিয়ে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
বাজারে বালাইনাশকের মান যাচাইও বড় চ্যালেঞ্জ। ডিএইর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে প্রায় আট হাজার ব্র্যান্ডের রাসায়নিক বালাইনাশক রয়েছে এবং এ বাজারের আকার আনুমানিক পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বারির পরীক্ষাগার-সংক্রান্ত তথ্যে চলতি বছরের পরীক্ষায় মাত্র ৪৭ শতাংশ বালাইনাশকের নমুনা শতভাগ বিশুদ্ধতার মান পূরণ করেছে। 
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও উদ্বেগ রয়েছে। বারির পরীক্ষাগার-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের পরীক্ষার গড় হিসাবে প্রায় ১০ শতাংশ সবজির নমুনায় গ্রহণযোগ্য সীমার বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। ফলের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় চার শতাংশ। ক্যাপসিকামের প্রায় ২০ শতাংশ নমুনা, লেটুসের কিছু নমুনা ও পানের নমুনায়ও গ্রহণযোগ্য সীমার বেশি অবশিষ্টাংশ পাওয়ার তথ্য রয়েছে। শুঁটকি মাছের প্রায় ১০ শতাংশ নমুনায় কীটনাশকজনিত দূষণের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নমুনার সংখ্যা, সংগ্রহের স্থান ও পরীক্ষার বছরসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে ঝুঁকির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণ সহজ হবে।
ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত বিরতিকাল বা প্রি-হারভেস্ট ইন্টারভ্যাল না মানলে খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকার আশঙ্কা বাড়ে। তাই কোন বালাইনাশক কী মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে এবং ফসল সংগ্রহের কত দিন আগে প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে, সে বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বালাইনাশক বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
অনুমোদনহীন ন্যানো ও তরল সার বিক্রি
দেশে ন্যানো ও তরল সার উৎপাদন, আমদানি ও বিপণনের সরকারি অনুমোদন না থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়েও প্রচার চালানো হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব সার বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।
গত ২৬ জুলাই অধিদফতরের সরেজমিন উইং থেকে দেশের সব জেলার উপপরিচালকদের প্রতি পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে ন্যানো ও তরল সার উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ, বিপণন, পরিবহন ও বিক্রয়ের কোনো অনুমোদন নেই। এরপরও কোথাও কোথাও এসব অনিবন্ধিত পণ্য বিক্রি ও প্রচার করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৮ ও ১৬ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত অধিদফতরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ভারত সীমান্তবর্তী যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও কুমিল্লা দিয়ে চোরাইপথে আসা ন্যানো ইউরিয়া বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বগুড়া, রংপুর ও নরসিংদীর মতো সবজিচাষ-প্রধান এলাকা এবং শহরের ছাদবাগানেও কুরিয়ারে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কৃষিতে এর ব্যবহার ১ শতাংশের নিচে।
কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানহীন বা ভেজাল পণ্য ব্যবহারে ফসলের পুষ্টিঘাটতি ও ফলনহানি হতে পারে। মাত্রা না জেনে প্রয়োগে পাতা ঝলসে যাওয়া এবং মাটির উপকারী অণুজীব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সুরক্ষা ছাড়া স্প্রে করলে কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় অনুমোদনহীন সার বিক্রি বন্ধে মাঠপর্যায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে অধিদফতর। তবে বাজার থেকে এই নিষিদ্ধ সার পুরোপুরি উঠেছে কিনা তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 
সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব 
রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে জৈব বালাইনাশক ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, উপকারী ভাইরাস এবং ফেরোমন ফাঁদের মতো পদ্ধতি নির্দিষ্ট ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো যায়। তবে জৈব বালাইনাশকের কার্যকারিতা নির্ভর করে পণ্যের গুণমান, পরিবেশগত অবস্থা ও প্রয়োগের সময়ের ওপর। তাই স্থানীয় পরিবেশে কার্যকর পণ্য উদ্ভাবনে গবেষণা বাড়ানো এবং কৃষকের কাছে মানসম্মত উপকরণ পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন।
সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় জমি পর্যবেক্ষণ, উপকারী পোকা সংরক্ষণ, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার, আক্রান্ত অংশ অপসারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ফসল সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
কৃষি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ডিএইর প্রত্যাহার নির্দেশের কার্যকারিতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন, বাজারে থাকা পণ্যের মজুদ শনাক্ত, প্রত্যাহার যাচাই ও আইনগত জবাবদিহির ওপর। অবিক্রীত পণ্য এবং কৃষকের কাছে থাকা মজুদ কিভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা-ও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। 
সাত প্রতিষ্ঠানের বালাইনাশক মাঠ থেকে প্রত্যাহার প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম নয়া দিগন্তকে বলেন, এটা প্লান্ট প্রটেকশন উইংয়ের নিয়মিত কাজ। পণ্যের মান যাচাই বাছাইয়ের পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম নয়া দিগন্তকে বলেন, উৎপাদন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়- এটা নিশ্চিত করে পেস্টিসাইডের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আগাচ্ছি। কৃষিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পেস্টিসাইডের মান নিশ্চিতে করণীয় নিয়ে কয়েকটি মিটিং হয়েছে, আরো হবে। আগামীতে সবকিছু মিলে হয়তো একটা সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে।

Advertisement