
খুলনা ব্যুরো
খুলনায় গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভাগীয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সম্মেলন ও বিজ্ঞান সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাপদ্ধতি তার নিজস্ব দর্শন, স্বতন্ত্র নীতি ও নিরাময় ক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। তবে আধুনিক যুগে শুধু চিরাচরিত উপায়ে চিকিৎসা দিলেই চলবে না, চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক অগ্রগতির সাথে অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে হবে।
তারা আরো বলেন, ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরাম যেভাবে চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ করে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। আগামী দিনেও চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরাম খুলনা বিভাগের উদ্যোগে নগরীর সোনাডাঙ্গার আল-ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ডা. মো: আব্দুল বারিকের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব ডা. জাকিরুল ইসলামের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। প্রধান বক্তা ছিলেন ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরামের পৃষ্ঠপোষক ডা. ফখরুদ্দীন মানিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফোরামের খুলনা মহানগরীর পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। অতিথি ছিলেন প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, ডা. মো: হাবিবুর রহমান, ডা. মুফতি মাসুদুর রহমান ও ডা. কে এম মোনায়েমুল বাসার। পরে বিজ্ঞান সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে হোমিওপ্যাথিকেও জাতীয় বাজেটের আওতায় আনা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ১০ শতাংশ দেয়া, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলে একজন অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর নিয়োগ দেয়া, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষকদের তিন বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা অবিলম্বে পরিশোধ করা, পরীক্ষাপদ্ধতি, খাতা মূল্যায়ন করতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলকেও দেয়া, কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, তাদের পদপদবি জেনারেল কলেজের মতো দেয়া এবং কলেজের অবকাঠামোর উন্নয়ন, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, ইনডোর, আউটডোর হাসপাতালের ওষুধ ও অন্যান্য জোগান সরকারিভাবে দেয়া, ইন্টার্নি চিকিৎসকদের ভাতা প্রদান, ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি কোটা বাতিল করা, ডিএইচএমএসের মান নির্ধারণ করা, চিকিৎসক লেখা নিয়ে যে টালবাহানা চলছে তা বন্ধ করা এবং ২০২৩ সালে সংসদে পাসকৃত আইন বলবৎ রাখাসহ ১৪ দয়া দাবি জানান হয়।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠান পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। তিনি নবগঠিত খুলনা বিভাগীয় কমিটির নাম ঘোষণা করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন সভাপতি অধ্যক্ষ ডা. মো: আব্দুল বারিক (সাতক্ষীরা), সহসভাপতি যথাক্রমে ডা. শেখ জালাল উদ্দীন (খুলনা). ডা. মো: ইমান আলী (খুলনা), ডা. কামরুন্নেছা খুশী (খুলনা), অধ্যক্ষ ডা. একরাম আলী হাওলাদার (বাগেরহাট), ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (চুয়াডাঙ্গা), সেক্রেটারি ডা. জাকিরুল ইসলাম (খুলনা), যুগ্ম-সম্পাদক ডা. মাজহারুল ইসলাম (বাগেরহাট), ডা. অলিউল ইসলাম (খুলনা), ডা. জাহিদ হোসেন (যশোর), ডা. ওবায়দুর রহমান (কুষ্টিয়া), ডা. সৈয়দ মাহমুদুল হক (নড়াইল), সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মানিক (কুষ্টিয়া), অর্থ সম্পাদক ডা. কাজী আব্দুল হান্নান (খুলনা), প্রচার সম্পাদক ডা. রায়হান হোসেন (খুলনা), মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকসানা সুলতানা (খুলনা), সাহিত্য সম্পাদক ডা. শাহারুল ইসলাম (মেহেরপুর), কার্যকরী সদস্য ডা. ফয়সাল হোসেন (যশোর), ডা. মীর শাকিরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), ডা. ফকরুল ইসলাম (চুয়াডাঙ্গা), ডা. ইব্রাহিম হোসেন (নড়াইল) এবং ডা. সাজেদুর রহমান (মেহেরপুর)।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








