ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতার পর কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত ম্যাক্রোঁর

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন ফ্রান্স

Advertisement

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। শনিবারের বিক্ষোভে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সাথে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের সমাধানে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। ভাষণের আগে এলিসি প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা এবং জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন, ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থক ও অভিভাবকেরা অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষার পরিবেশ ও বিভিন্ন সামাজিক দাবিতে তারা রাস্তায় নামেন। তবে একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু প্যারিসেই প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পুলিশ প্রিফেকচারের হিসেবে, রাজধানীতে ৮৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির দফতরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৫৫৭ জনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে, যাদের ১৫১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
মার্সেই, লিয়োঁ, বোর্দো, রেন, স্ত্রাসবুর্গ, গ্রেনোবল, নিস ও লিমোজসহ বিভিন্ন শহরেও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষে ৬০০ জনের বেশি পুলিশ, জেন্ডারমেরি সদস্য ও অগ্নিনির্বাপণকর্মী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক হিসাবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভাষণে ম্যাক্রোঁ দোকানপাটে লুটপাট, সরকারি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের নিন্দা জানান। লিমোজের পৌরসভায় অগ্নিসংযোগ, লিয়োঁর পর্যটন দফতরে হামলা, মার্সেইয়ের পৌরসভায় অনুপ্রবেশ এবং বোর্দোতে প্রিফেক্টের বাসভবনে হামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আহত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট। সহিংসতার কারণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।