
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গতকাল সোমবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অফিসকক্ষে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, বৈঠকে মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সার্বিক দিক এবং বাস্তুচ্যুত জনগণের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাতের কারণে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এক মারাত্মক সঙ্কটের মুখোমুখি রয়েছে। তিনি এই সঙ্কটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিশেষ দূত জুলি বিশপ বর্তমান সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জানান যে, সঙ্ঘাত বন্ধ করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও কূটনীতি অব্যাহত রেখেছেন।
বৈঠকে সীমান্ত অঞ্চলে ল্যান্ডমাইনের আধিক্য, মানব ও মাদক পাচার এবং এর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাক্ষাতকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক, সিনিয়র পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ডানকান কিথ উইলসন, ইউএনএইচসিআরের উপ-প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিয়সোনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা
সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং এর পর থেকে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী গতকাল বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রী বলেন, আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে (বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে) যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, চলমান দুর্গাপূজায় মণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না এবং কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না।
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস উড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) বিজন কান্তি সরকার, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








