দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের চর্চায় নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই : শিক্ষামন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

নতুন প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি আমরা আমাদের মূল নৈতিক ভিত্তি থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি, যা গভীরভাবে ভেবে দেখার বিষয়। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম এবং নৈতিক মূল্যবোধের  ভিত্তিতে গড়ে তোলার ওপরে গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। 
গতকাল আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (অটঝঞ) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে  চীন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  মন্ত্রী বর্তমানে চীনের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দিতে সেখানে অবস্থান করছেন। চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১০০টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে চীনের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ছয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগে কৌশলগত শিক্ষাগত সমন্বয় করা হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (ইওওঞ) এবং আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষা ও জ্ঞানের বৈশ্বিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ প্রায় ১৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা অংশগ্রহণ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম এইচ খান মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইটির মহাপরিচালক ও আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আজিজ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রহমান।
ড. নিয়াজ আহমেদ খান শিক্ষাব্যবস্থার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘নৈতিক শিক্ষার সাথে জাগতিক শিক্ষার আমরা কোনো সমন্বয় করতে পারছি না। অন্য দিকে আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত দক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। যেখানে দেশে সাধারণ বেকারত্বের হার প্রায় ৩.৫ শতাংশ, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বেকারের হার ১৩.৯ শতাংশ- যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং এটি আমাদের একটি জাতীয় ব্যর্থতা।’ তিনি আধ্যাত্মিক শিক্ষার সাথে জাগতিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সামাজিক চাহিদার সঠিক সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন সার্ভিসেস সেন্টারের পরিচালক ও আয়োজক কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরওয়ার মোর্শেদ, সহআয়োজক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়ার (টঝওগ) লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্যাকাল্টির ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: রুশদান মাহাদ জিলানী এবং আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভির্সি প্রফেসর ড. মো: আশরাফুল হক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞান ও নৈতিকতার মেলবন্ধন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও সহআয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়ার প্রফেসর ড. মো: ইউসুফ আলী।