গোদাগাড়ীতে মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ জামায়াতের দুই এমপি

রাজশাহী ব্যুরো 

Advertisement

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা। এ ঘটনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
সোমবার  গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে মানবকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল মাহফিলটি। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে মুফতি আমির হামজার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এ উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে এলাকায় পোস্টার সাঁটানো, মাইকিং ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছিল। তবে অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাহফিলের আয়োজন বাতিল করেন উদ্যোক্তারা।
রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আমির হামজা মাহফিলের অনুমতি না দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রশাসনের কাছে তিনি জানতে চান, কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে ধর্মীয় এ মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে বাস্তব কোনো উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। স্ট্যাটাসে আমির হামজা আরো উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল ঘিরে বাধা ও বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরো স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করেছিলেন; কিন্তু এ ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, সরকার পরিবর্তনের সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে কি না।
এ দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিডিও বার্তায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, তাফসির মাহফিল বন্ধের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো আচরণ করছে। কুরআনের মাহফিল বন্ধের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সরকারকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফিলের অনুমতি চাওয়া নিয়ে আয়োজক ও প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। মানবকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক বলেন, মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের কাছে আবেদন করেছিলেন তারা। তবে ১৭ অক্টোবর আবার দাওয়াত দিতে গেলে ইউএনও জানান, তার কাছে কোনো আবেদন নেই। এ ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে অনুমতি দেয়াও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এরপর তারা মাহফিলের আয়োজন বন্ধ করে দেন।
ইউএনও ইসরাত জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের মাহফিলের অনুমতি জেলা প্রশাসন থেকে নিতে হয়। আয়োজকরা জেলা প্রশাসনের কাছে যাননি। পরে তিনি নিজেই বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে মাহফিলের অনুমতি দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
অন্য দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মাহফিলের অনুমতি চেয়ে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। আবেদন না করা হলে অনুমতি দেয়ার প্রশ্নও আসে না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আয়োজক কমিটির সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে ইসমাইল হক বলেন, ইউএনও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে বলার সময় মাহফিলের আর বেশি সময় বাকি ছিল না। এ কারণে তারা আর জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেননি।