
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির নিট বিক্রি ৬ শতাংশ বাড়লেও কর-পরবর্তী মুনাফা কমেছে ২১ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ বিক্রির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ১৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে জ্বালানি, পরিবহন ও কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধি মুনাফায় চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা ১৯ শতাংশ কমে ৩৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ৪২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। পরিচালন মুনাফার হারও ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
এ দিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩ টাকা ৬ পয়সা থেকে কমে ২ টাকা ৪১ পয়সায় নেমেছে, যা প্রায় ২১ শতাংশ কম। কর-পরবর্তী মুনাফার হারও ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১২ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হলেও উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে কোম্পানি ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হলেও হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট, সুপারক্রিট প্লাস ও কোস্টালগার্ডের মতো বিশেষায়িত পণ্য বাজারে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। এসব পণ্যের চাহিদা এবং কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ বিক্রির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
কোম্পানির পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ ‘জিওসাইকেল’-এর অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধান নির্বাহী। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে এ উদ্যোগের আওতায় ৩১ হাজার টনের বেশি বর্জ্য কো-প্রসেসিং করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১০ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে।
এ দিকে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসের জন্য ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। এতে মোট ১১৬ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিতরণের কথা জানানো হয়েছে।
কোম্পানি জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে বছরের বাকি সময়েও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে। এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ২০২৭ সালের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরিতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত মূল্য নির্ধারণের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








