ইয়েমেনে সরকারি ঘাঁটিতে হাউছিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু সেনার মৃত্যু

মিডল ইস্ট আই ও আলজাজিরা
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর এক সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৫ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। গতকাল সোমবার সকালে এই রক্তক্ষয়ী হামলাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সামরিক ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রদেশের রাজধানী আতাকের সন্নিকটে জারদান এলাকার আল-আলাম সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণ চলার মুহূর্তে সরাসরি আঘাত হানা এই ধ্বংসাত্মক ঘটনার দায় হাউছি বিদ্রোহীদের ওপর চাপিয়েছে ইয়েমেন সরকার। হামলায় নিহতদের অনেক লাশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে হাউছিদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। এ দিকে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবের নজরান শহরের আবাসিক এলাকায় হাউছিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার পাশাপাশি তিনটি বসতবাড়ি ও তিনটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত পরশু রোববার সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর জানায়, বেসামরিক এলাকায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তারা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে গেছে।
পাল্টা জবাবে ইয়েমেনজুড়ে সৌদি সামরিক বাহিনীর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। হাউছিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রাজধানী সানা, হোদেইদা, তায়েজ, মারিবসহ প্রায় ৯টি প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০টি বিমান ও হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন হতাহত হয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর বিমান হামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই ৬৫২টিতে। ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হাউছিদের এই চলমান সঙ্ঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক দূতাবাস। ইরান ও তাদের সমর্থিত হাউছি গোষ্ঠী যেকোনো সময় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাকেন্দ্র কিংবা স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে ইয়েমেন, ইরান, সৌদি আরব, ইসরাইল, ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে থাকা তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং আকস্মিক ভ্রমণ জটিলতার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

Advertisement