
এ এম ওমর আলী, চকরিয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদীতে ফের শুরু হয়েছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নির্বিচারে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দুই উপজেলার নদী অংশের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অর্ধশতাধিক স্থানে এসব ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কোথাও দিন-রাত, আবার কোথাও রাতের আঁধারে চলছে এই কর্মকাণ্ড।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলে কয়েকদিনের জন্য বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু উত্তোলনকারী চক্র। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ অবৈধ কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য বিঘিœত হচ্ছে, অন্য দিকে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে নদীতীরবর্তী জনপদ, ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নদীর বুক চিরে চলছে বালু উত্তোলন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভা-সংলগ্ন নদী অংশসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মামা-ভাগিনার মাজার এলাকা, হাজিয়ান, ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, সুরাজপুর, মানিকপুর, ল্যারচর, কৈয়ারবিলের দ্বীপকূলপাড়া, বরন্যার চর, পৌরসভার আমানচর ও বাটাখালী, পূর্ব বড়ভেওলা এবং বিএমচর এলাকায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব এলাকায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু তোলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিও রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর উপযুক্ত সমীক্ষা ও পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া যত্রতত্র বালু উত্তোলন নদীর তলদেশের গঠন, তীরের স্থিতিশীলতা এবং পানিপ্রবাহের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নদীর বাঁক, সেতু, প্রতিপক্ষরা বাঁধ ও বসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে ভাঙন ও অবকাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বালু একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণসামগ্রী। সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রিত, পরিবেশসম্মত ও আইনানুগ পদ্ধতিতে না হলে একদিকে প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি হয়, অন্য দিকে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হতে পারে। মাতামুহুরী নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হলেও এর সঠিক পরিমাণ, ইজারা বা অনুমতির অবস্থা এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ের হিসাব জনসমক্ষে স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের দাবি, মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা অংশে জরুরি ভিত্তিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাতামুহুরী নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা জনপদ, কৃষি, যোগাযোগ ও পরিবেশ রায় এখনই কার্যকর পদপে নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শফিউল আলম বলেন, বালু খেকোদের চিহ্নিত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








