সিলেটের অধিকাংশ রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নেই
মৌলভী বাজারের একটি রিসোর্ট : নয়া দিগন্ত।

আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট 
কক্সবাজারের উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহতের ঘটনার পর সিলেট অঞ্চলের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অধিকাংশ রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। অথচ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পাহাড়, টিলা ও সবুজ প্রকৃতির পাশে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে নতুন নতুন অবকাশকেন্দ্র।
সংশ্লিষ্টদের হিসেবে, সিলেট বিভাগে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে শুধু মৌলভীবাজার জেলাতেই রয়েছে দুই শতাধিক রিসোর্ট। সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট আছে শ্রীমঙ্গলে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার সদর, কুলাউড়া, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায়ও অনেক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে চলছে, তার সমন্বিত কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।
শ্রীমঙ্গল ট্যুরিজম সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস কে দাস সুমন জানান, উপজেলায় প্রায় ১০৩টি রিসোর্ট রয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদের হিসাবে, মৌলভীবাজার জেলায় রিসোর্টের সংখ্যা প্রায় ২০০। তিনি বলেন, নামের সাথে রিসোর্ট যুক্ত থাকলেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট বলা যায় না। কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দেয়ার ব্যবস্থাকেও রিসোর্ট হিসেবে প্রচার করার প্রবণতা রয়েছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো: মঈদুল ইসলাম রোববার জানান, তাদের দফতর থেকে প্রায় ৬০টি রিসোর্টকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ২০টি বা তার বেশি কক্ষ রয়েছে, এমন রিসোর্টের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, অন্তত ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগের হোটেল ও রিসোর্টের ক্ষেত্রে তাদের দফতর পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়। ছাড়পত্র পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকলেই যেসব ধরনের রিসোর্টকে অনুমোদন দিতে হবে তা কিন্তু নয়। জমির ব্যবহার, ভবন নির্মাণ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো যাচাই করান প্রয়োজন পড়ে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমান বলেন, কোথায় কারা রিসোর্ট নির্মাণ করছেন এবং কী অনুমতি নিয়ে পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রিসোর্ট স্থাপন ও পরিচালনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের জাতীয় পরিষদের সদস্য এ এস এম সালেহ সোহেল বলেন, পাহাড় ও বন কেটে রিসোর্ট নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও সুস্পষ্ট নীতিমালা জরুরি।
সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সুমত নূরী জুয়েল জানান, জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলায় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট মিলিয়ে ৫৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন তিনি। তার সংগঠনের ২২ থেকে ২৫টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটন ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। অগ্নিনিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই করে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Advertisement