গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে

খুলনা ব্যুরো ও ফুলতলা সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিরোধী দলের লংমার্চকে পিকনিকের সাথে তুলনা করে সরকারের বিভিন্ন দ্বায়িত্বশীলের করা মন্তব্যকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, জাতি ভেবেছিল অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার জনআকাক্সক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। কিন্তু জনগণের আশা আকাক্সক্ষার তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে গঠিত সরকার সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের ঘোষণা দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। দেশের একটি দায়িত্বশীল এবং কল্যাণাকাক্সক্ষী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সরকারের এই দ্বিমুখী আচরণের বিরোধিতা করে জাতিকে আশান্বিত করার লক্ষ্যে এই লংমার্চ ঘোষণা করেছে। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, প্রায় ৭০% মানুষ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে তাদের মতামত জানিয়েছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করুন, অন্যথায় জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না।
গতকাল খুলনা জেলা জামায়াতের উদ্যোগে সাত দফা দাবি আদায়ে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরের পথসভা বাস্তবায়নে ফুলতলা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। 
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুন্সী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- দলের খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্যাহ এমপি, জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন। সদস্যসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুসের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-  জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদি, মুহা: আমিনুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা,  মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, অধ্যাপক মহিউল ইসলাম, জেলা শিবির সভাপতি মুহা: মমিনুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল আলিম, সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, মাওলানা আবুল হাসান,  গাজী সাইফুল্লাহ,  গাজী মোর্শেদ মামুন, মাওলানা সাইফুল হাসান, আব্দুর রশিদ বিশ্বাস,  আফজাল হোসেন, মাওলানা মুশফিকুর রহমান ও শেখ আলাউদ্দিন।
খুলনাসহ সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে জাতিকে সংবিধানের সবক দেন। অথচ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো দেশের আভ্যন্তরীণ  শান্তি শৃঙ্খলা ঠিক রাখা। কিন্তু আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে, পত্রিকার পাতা উল্টালে নিত্যদিনই হত্যা, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজির সংবাদ দেখি। সাধারণ মানুষ বর্তমানে সবসময় আতঙ্কে থাকে, না জানি কখন কী ঘটে। খুলনার সমস্যা তো আরো বেশি। গত কয়েকদিন প্রায় প্রতিদিনই হত্যা, গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির ঘটনা তো আছেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বিষয়ে কোনো কাজ না করে থাকেন শুধু সংবিধান নিয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানাই।
আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা- খুলনা- কুষ্টিয়ার লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আকাক্সক্ষাই হলো আমাদের সাত দফা। জনগণ সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চায়। জুলাই গণহত্যার বিচার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নয়, ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চায়। গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও সার সঙ্কটের নিরসন চায়। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব যাতে তারা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘেœ উদযাপন করতে পারে সেদিকে জামায়াত নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

Advertisement