
শাহেদ মতিউর রহমান
শিক্ষাভবন ঘিরে এখনো সক্রিয় রয়েছেন আওয়ামী বলয়ের লোকজন। তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন দীর্ঘ দিনের বঞ্চিত ও ত্যাগী কর্মকর্তাগণ। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন তারা দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চিত ও নানাভাবে ত্যাগ স্বীকার করেও এখনো নানাভাবে তারা প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা রয়েছে। যোগ্যতা আর মেধা থাকার পরেও যথাযথ পদে পদায়ন না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা কর্মস্পৃহাও হারিয়ে ফেলছেন। অথচ দীর্ঘ দিন যারা আওয়ালীগের নাম পদবি ব্যবহার করে নানাভাবে অবারিত সুবিধা নিয়েছেন এখনো ঘুরে ফিরে তারাই সুবিধা নিচ্ছেন বা পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে শিক্ষা ভবনের অন্যতম শাখা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরেও এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুগলঘি সব কাণ্ড। দীর্ঘ ১৭ বছরের এই সময়টাতে দেশের বিভিন্ন বিভাগের শতশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাল সার্টিফিকেট ও আর্থিক অডিট রিপোর্ট নিয়ে বর্তমানে কিছু কর্মকর্তা আপত্তি জানালে তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে নানাভাবে কোণঠাসা করার কূটকৌশল। শিক্ষকদের জাল সার্টিফিকেট এবং অর্থ লুপাটের আপত্তি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ দেয়ার পরে এখন উল্টো এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সিঙ্গেল অর্ডারে (তারিখ পহেলা সেপ্টেম্বর ২০২৬) পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের যগ্মপরিচালক হিসেবে মো: আব্দুস সালাম আজাদ নামের এক কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিআইএতে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ বেশ জোরালোভাবে সবার মুখে মুখেই আলোচনায় ছিল।
সূত্র জানায়, পুরো শিক্ষা ভবনে বিশেষ করে ডিআইএতে এই আব্দুস সালাম আজাদ এবং তারই আপন বড়ভাই আবুল কলাম আজাদ ২১-০৪-২০১৩ সাল থেকে ৩০-০৭-২০১৮ পর্যন্ত এই পরিদর্শন অধিদফতরে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে ঘুষ কেলেঙ্কারি ছাড়াও ডিআইএর অন্য কর্মকর্তাদের সাথে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণেই মূলত দুই ভাইকে একসাথে ৩০-০৭-২০১৮ সালে ডিআইএ থেকে বদলি করা হয়। অন্য একটি সূত্র জানায়, এই দুই ভাই ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের দুধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। এমন অভিযোগ সবার মুখে মুখে রয়েছে ডিআইএতে।
এ দিকে সম্প্রতি পুনরায় আব্দুস সালাম আজাদ স্পেশাল অর্ডারে পদায়ন পাওয়ার পর গত ২-৯-২০২৬ তারিখে অফিসে যোগদান করতে আসে। কিন্তু অতীত রেকর্ড আর কর্মকর্তাদের বিক্ষুব্ধ মনোভাবের কারণে প্রতিবাদের মুখে তিনি কাজে যোগদানই করতে পারেননি। এমনকি এখন পর্যন্ত তিনি সশরীরে এসে অফিস করতে সাহস পাচ্ছেন না। অফিসের সাধারণ কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের বাধার মুখে যোগদান করতে ব্যর্থ হয়ে ইতোমধ্যে তিনি অফিস ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে চাকরি বাচানোর জন্য তিনি এখন অনলাইনে অফিস করছেন বলে লোকজনকে বলে বেড়াচ্ছেন। এখনো তার অফিস তালাবদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে তাকে এই পদে আনার জন্য নেপথ্যে গোপনে কাজ করছেন ডিআইএর পরিচালক এবং মাউশির শীর্ষ এক কর্মকর্তা।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে কথা হয় আব্দুস সালাম আজাদের সাথে। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান আমি ডিআইএতে যোগদান করার পরে এখন অফিস করছি না। কেন করছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিশেষ কিছু কারণে করছি না, তবে এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে আমি অবহিত করেছি। আর ছাত্রলীগের সাথে আমার কোনোকালেই কোনো সস্পৃক্ততা ছিল না। এটা শ্রেফ মিথ্যা একটি অপবাদ। কেউ খুঁজেও এমন কোনো তথ্য দেখাতে পারবে না। আপনিতো এর আগেও ডিআইএতে চাকরি করেছেন পরে এখান থেকে বদলিও হয়েছেন এটা সঠিক কিনা? উত্তরে তিনি বলেন, আমি কোথায় কোথায় চাকরি করেছি এটাতো আমাদের আগের সব রেকর্ড দেখলে যে কেউই জানতে পারবে। তবে হ্যাঁ, আমি আগে ডিআইএতে চাকরি করেছি এটা সত্য। আর সাংবাদিক হিসেবে আমার বিষয়ে এসব তথ্য পত্রিকায় লিখবেন কি না এটা নিতান্তই আপনার এবং আপনার পত্রিকার বিষয়। এর চাইতে বেশি আমি আর কিছুই বলব না।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








