
রুহুল আমিন আত্রাই (নওগাঁ)
দেশী মাছের সঙ্কটে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি পল্লীতে এবার প্রাণচাঞ্চল্য নেই। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে কাঁচামালের দাম। বেশি দামে মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করে লোকসানের মুখে পড়ছেন অনেক ব্যবসায়ী। ফলে ভরা মৌসুমেও কমেছে শুঁটকি উৎপাদন।
সরেজমিন দেখা যায়, একসময় উত্তরাঞ্চলের অন্যতম মৎস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত আত্রাই থেকে উৎপাদিত শুঁটকি দেশের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি জেলায় সরবরাহ করা হতো। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রংপুর, নীলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরেও ছিল শুঁটকির চাহিদা। ভরতেঁতুলিয়ার শতাধিক পরিবার এ পেশায় যুক্ত থেকে পরিবারের খরচ চালাতেন। তারা বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে কার্তিক-অগ্রহায়ণ পর্যন্ত শুঁটকি তৈরি ও বিক্রির কাজে নিয়োজিত থাকতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এবার আগাম বন্যা ও নদী-খাল-বিলে দেশী মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় শুঁটকি তৈরির উপযোগী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি নিষিদ্ধ রিংজাল ও সোঁতিজালের অবাধ ব্যবহার মাছের প্রজনন ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।
ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী মোজাহার আলী মোল্লা বলেন, আগের মতো দেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে মাছ পাওয়া যায়, তার দামও বেশি। বেশি দামে মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করে লোকসান গুনতে হয়। এ কারণে এবার শুঁটকি উৎপাদনকারীর সংখ্যাও কমে গেছে।
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তার সরদার বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এ পেশায় যুক্ত। পুঁটি, খোলসানি, চান্দা, রায়খর ও সাটিসহ বিভিন্ন দেশী মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন তিনি। এতে প্রচুর শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। রোদ-বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে কাজ করলেও মাছের অভাবে এবার চাহিদামতো শুঁটকি তৈরি করা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ী নাফিকুল ইসলাম বলেন, পুঁটি ও সাটি মাছের শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু মাছের সঙ্কটে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আত্রাইয়ের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্ষার শুরুতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রিংজাল ও সোঁতিজাল জব্দ এবং পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








