নন্দীগ্রামে অনাবৃষ্টিতে চৌচির আমনক্ষেত, সেচের সঙ্কট
নন্দীগ্রামে পানির অভাবে হলুদ হয়ে গেছে আমন গাছের পাতা : নয়া দিগন্ত।

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা 

Advertisement

বগুড়ার নন্দীগ্রামে দীর্ঘ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানের জমিতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসঙ্কট। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার বিঘা জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পানির অভাবে ধানের চারা নুয়ে পড়ছে, কোথাও কোথাও পাতা হলুদ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফসল রক্ষায় সেচের পানির জন্য হাহাকার করছেন কৃষকরা। 
উপজেলার চাকলমা, রিধইল ও কাথমসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমনক্ষেতের মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। চাকলমা মাঠের প্রায় ৬০০ বিঘা এবং রিধইল মাঠের প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যান্য এলাকার জমি মিলিয়ে প্রায় এক হাজার বিঘা আমনক্ষেত পানিসঙ্কটে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাধারণত বর্ষার বৃষ্টির ওপর নির্ভর করেই এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক আমন ধানের চাষ করেন। কিন্তু এবার দীর্ঘ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ধানের গোছা বৃদ্ধি ও শীষ বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানির অভাব দেখা দেয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, চুরির আশঙ্কায় অনেক গভীর নলকূপের মালিক বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার খুলে নিরাপদ স্থানে রেখে দিয়েছেন। ফলে জমিতে সেচের প্রয়োজন হলেও সময়মতো পাম্প চালু করা যাচ্ছে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঘনঘন লোডশেডিং। ট্রান্সফরমার বারবার ওঠানো-নামানোর খরচও বাড়ছে।
কাথম গ্রামের কৃষক মাহাতাব বলেন, ভাদ্র মাসে ধানের গোছা বাড়ানোর সময় জমিতে পানির প্রয়োজন হয়েছিল। অথচ পানির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অন্যদিকে চাকলমা গ্রামের কৃষক জামিল উদ্দিন বলেন, তার জমিতে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। এ সময়ে তীব্র গরম ও পানিসঙ্কটে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গভীর নলকূপের মালিক বাবলু বলেন, কিছুদিন আগে আমার নলকূপের মেশিনের তার চুরি হয়ে গেছে। এ কারণে চুরির ভয়ে ট্রান্সফরমার খুলে রাখছি। এখন সেচের প্রয়োজন হলেও বারবার ট্রান্সফরমার স্থাপন করা যায় না। এর ওপর আছে লোডশেডিং।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নন্দীগ্রামে প্রায় ১৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে সেচের পানি সরবরাহের জন্য রয়েছে ৩৫৩টি গভীর নলকূপ।
এ বিষয়ে উপজেলা কর্মকর্তা গাজিউল হক বলেন, কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর নলকূপ মালিকদের সাথে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত সেচের পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।