
নিজস্ব প্রতিবেদক
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজধানীজুড়ে সমন্বিত ও নি-িদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বা গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার জানান, এ বছর ঢাকা মহানগরীতে সর্বমোট ২৫৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মণ্ডপগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ৯টি বৃহৎ মণ্ডপ রয়েছে, যেখানে পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০ জন করে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, মণ্ডপগুলোতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ডিএমপির কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি লাইভ মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা তল্লাশি কার্যক্রম কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোর প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে।
পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ডিউটির অতিরিক্ত হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের দুই হাজার ৭২ জন পুলিশ সদস্য ২৫৭টি মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন। মণ্ডযপ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর সতর্ক নজরদারি রাখা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোয়াট, এক্সপ্লোসিভ রিকভারি অ্যান্ড বম্ব ডিসপোজাল টিম, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার তথ্য বা ভীতি সঞ্চারের আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে ডিএমপির সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়ে কমিশনার বলেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ অবহিত করতে হবে। একই সাথে উৎসব নির্বিঘœ করতে পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








