
বাকৃবি প্রতিনিধি
‘এই রাষ্ট্র আমার না। চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ধৈর্যের ফল আজ শূন্য। কিভাবে বৃদ্ধ আব্বার সামনে যাবো, জানি না। শুধু একটাই প্রশ্ন- কী অপরাধে মেধাতালিকায় ২৮তম হওয়ার পরও আমাকে বাদ দেয়া হলো! ক্রসফায়ারে দিয়ে দেন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।’
কথাগুলো বলছিলেন ৪৫তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান। দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরীক্ষা ও চূড়ান্ত সুপারিশের পরও গেজেটে নিজের নাম না পেয়ে হতাশ তিনি।
মনিরুজ্জামান বাকৃবির ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে মৎস্য ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। মেধাতালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ২৮তম। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত গেজেটে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
কেন গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি বলে জানান মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন বাদ দেয়া হলো, এর উত্তর আমার জানা নেই। আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছি। তার পরও যে বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছিলাম, সেই বঞ্চনারই শিকার হতে হলো আমাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একটি বিসিএসের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে চার বছর লড়াই করতে হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ উত্তীর্ণ হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীকে বাদ দেয়া অমানবিক। যে রাষ্ট্র বৈষম্যহীন আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, সেই রাষ্ট্রই আজ আমাদের সাথে বৈষম্য করছে। কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাইমব বা মামলা না থাকার পরও ভেরিফিকেশনের দোহাই দিয়ে এভাবে আর কতজনের সাথে অবিচার করা হবে?’
গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অবিলম্বে ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ পড়া সবাইকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। ২০২৩ সালের ১৯ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর বিভিন্ন ক্যাডারে মোট এক হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি। গত ১৪ অক্টোবর ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীর নামে গেজেট প্রকাশিত হয়। এতে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৫ জন প্রার্থী বাদ পড়েন। তাদের একজন মনিরুজ্জামান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








