ক্যান্সারের ওষুধ পাচার চক্রের চীনা নাগরিকসহ গ্রেফতার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৩। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধের পাশাপাশি ছয় লাখ ছয় হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহজাহানপুরে এসআরবি-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেনÑ চীনা নাগরিক লি ফেন (৩৪), বাংলাদেশী নাগরিক বকুল নাহার বীথি (২৪), ইউনুস আলী (২৬) ও সজীব হাওলাদার (২৮)। 
এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানান, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে বিদেশে ওষুধ পাঠানো এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ৩০ দিনের টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ঘন ঘন আসা-যাওয়ার আড়ালে তিনি মূলত ওষুধ চোরাচালান চক্রটি পরিচালনা করছিলেন। অন্য দিকে গ্রেফতার বকুল নাহার বীথি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিষয়ে পড়াশোনা করেন। চীনে থাকাকালীন তিনি চীনা ভাষা শেখেন এবং দেশে ফিরে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের দোভাষী হিসেবে কাজ করেন।
ফায়েজুল আরেফীন জানান, এই চক্রটি বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া ওষুধ সংগ্রহ করত। পরে তা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠাত। বিশেষ করে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধ পাচারের সাথে চক্রটির সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। কুরিয়ারে বুকিং দেয়ার সুবিধার জন্য ওষুধগুলো ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওজনের কার্টনে প্যাকেটজাত করা হতো। ক্যানসারের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলসহ একাধিক কুরিয়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
গ্রেফতার বকুল নাহার বীথির নামে বিভিন্ন পার্সেল বিদেশে পাঠানো হতো। তবে এসব চালানে ওষুধের কোনো উল্লেখ থাকত না; বরং মিথ্যা ঘোষণায় ‘সাধারণ পণ্য’ হিসেবে পার্সেলগুলো বুকিং দেয়া হতো।

Advertisement