
খুলনা ব্যুরো
খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবহমান নদী-খালকে বন্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেয়ার কার্যক্রম বন্ধ এবং এসব জলাশয় উন্মুক্ত ঘোষণা করে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন গতকাল খুলনা প্রেস কাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিভাষ মণ্ডল বলেন, বটিয়াঘাটা ও দাকোপের কৃষি, মৎস্য আহরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি, মাছের উৎপাদন হ্রাস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নদী-খাল উন্মুক্ত রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা, খড়িয়া, বটবুনিয়া, বরাখালী, ছোটখড়িয়া, মরাখড়িয়া, গোল্ডামারী ও বটিয়াঘাটা খালসহ কয়েকটি প্রবহমান জলাশয়কে বন্ধ দেখিয়ে ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল প্রায় ৬০ একর আয়তনের আমতলা নদী গঙ্গারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ছয় বছরের জন্য বছরে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়। সে নদীতে নেট-পাটা ও বাঁধ স্থাপনের কারণে পানিপ্রবাহ, কৃষিকাজ এবং সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৬ সালের ১২ আগস্ট তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী এবং ২০০৭ সালের ৮ মে খুলনার জেলা প্রশাসকের কাছে নদী-খাল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে আবেদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত, প্রশাসনিক প্রতিবেদন ও আদালতের আদেশের পর ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর ইজারা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকার উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








