পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫

ডন ও রয়টার্স

Advertisement

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি শিাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৭ জনই শিার্থী এবং অন্য জন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক। স্থানীয় লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম ডনকে হতাহতের এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আসিম ২১ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছিলেন, প্রাণ হারানো ২০ শিার্থীর মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও দু’জন মেয়ে, যাদের বয়স সাত থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এর পাশাপাশি একজন শিকিাও এতে প্রাণ হারিয়েছেন।
চিকিৎসাকেন্দ্রটির এই প্রতিনিধি জানান, মর্মান্তিক ঘটনাটিতে আরো ১৯ জন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। জানা গেছে, মৃতের এই সংখ্যা সামনে আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লেডি রিডিং হাসপাতালে জরুরি অবস্থাকালীন ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে বলে জানান আসিম। পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে জানান, পাঠদান চলাকালে আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে পড়লে শ্রেণিকে থাকা কোমলমতি শিার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। এ দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে বলে তার দফতর থেকে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আফাক জানান যে, উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলের সব ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলতে সম হয়েছেন এবং সেখানে আর কোনো শিশু বা আহত ব্যক্তি আটকে নেই। এ দিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি চরম শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করার পাশাপাশি ছাদ ধসে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় গভর্নর বলেন, ‘অবাঝ নিষ্পাপ শিশুদের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।’ তিনি শোকাকুল স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা ব্যক্ত করেন। ঘটনা জানার পর স্বজনদের খোঁজে দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান সামিউল্লাহ নামের এক অভিভাবক। তিনি ডনকে বলেন, ‘বাসা থেকে খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আমি এখানে পৌঁছাই এবং আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করি। আমাদের পরিবারের ছয়টি সন্তান এই স্কুলে পড়াশোনা করে।’ নিজের আতঙ্কের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সামিউল্লাহ আরো বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ দেখে ভেবেছিলাম আমার ছেলেও হয়তো আর বেঁচে নেই। সে নিচতলার কে পাঠ নিচ্ছিল এবং সেটির উপরের অংশই ভেঙে পড়ে। তবে ভাগ্যক্রমে সেই সময় সে পানি পানের জন্য কাসের বাইরে অবস্থান করছিল।’ উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী এই পেশোয়ারে গত  রোববারে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গভর্নর শাসন ও জরুরি অবস্থা কার্যকর করা হয়।