
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা, দুর্বল ব্যাংক খাত পুনর্গঠন এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, শুধু সুদের হার বাড়ানো বা অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এর সাথে আর্থিক খাতের সংস্কার, কর আদায়ের সমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরা সম্প্রসারণ এবং নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানোর মতো পদপেও প্রয়োজন। আইএমএফ মানুষের ক্রয়মতা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নি¤œ আয়ের পরিবারকে ল্যভিত্তিক নগদ সহায়তা দেয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল বৃহস্পতিবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র। একই দিন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল কার্কের সাথে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অন্যতম প্রধান সমস্যা। আইএমএফের আলোচনায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়মতা কমেছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চাপে রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট কি নাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, মুদ্রানীতি কঠোর রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশের সামনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতিÑ এই তিন েেত্র চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মুদ্রানীতির পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ, উৎপাদন ব্যয়, আমদানি ব্যয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সুদের হার বাড়িয়ে চাহিদার চাপ কমানোর চেষ্টা করা হলেও সরবরাহজনিত সমস্যা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় বা বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক ঋণের ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও থাকে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সাথে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রা করতে হবে।
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা নতুন ঋণ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ : বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, দেশের আর্থিক খাত অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাংকগুলোর সমতা পুনরুদ্ধার, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
গতকাল আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল কার্কের সাথে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার, পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সাথে আইএমএফের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় পাওয়া তথ্য ও অগ্রগতির ভিত্তিতে উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আইএমএফ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ব্যাংক খাতের সংস্কার ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর মতো বিষয়ে সংস্থাটির পর্যবেণ রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক বিষয়ে দুই প একমত হয়েছে এবং বেশ কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রেখে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সংস্কারে মূলধন ঘাটতি পূরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, ঋণ বিতরণে অনিয়ম বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনঃমূলধনীকরণ করতে হলে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ, অর্থের উৎস এবং সংস্কারের কার্যকারিতা নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিশেষ করে সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণের েেত্র জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অনিয়মের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় না এনে শুধু মূলধন জোগান দেয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সঙ্কট আবারো তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের দুর্বল রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিকে অর্থনীতির অন্যতম কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখছে আইএমএফ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনি¤œ অনুপাতগুলোর একটি।
রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত হলো মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ। এ অনুপাত কম হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিা-স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির ব্যয় মেটাতে সরকারের নিজস্ব অর্থের সংস্থান সীমিত থাকে। তখন ঋণ বা অন্যান্য অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।
এ কারণে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের দতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি কমানো এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কর-জিডিপি অনুপাতও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এসেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত
সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, আগের কর্মসূচির আওতায় আর ঋণের কিস্তি না নেয়ার সিদ্ধান্তের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপ নতুন একটি কর্মসূচির জন্য আইএমএফের সহায়তা চায়। এর পরিপ্রেেিত গত জুলাইয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় উঠে আসা সংস্কারের বিষয়গুলো চলতি বছরের আর্টিকেল ফোর পরামর্শে দেয়া সুপারিশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানান তিনি।
জুলাইয়ের সফরের পর থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপরে সাথে আইএমএফের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে সংস্থাটি আগ্রহী বলেও জানান সোনালি জৈন চন্দ্র।
বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফ প্রশ্ন তুলেছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কর্মসূচির আওতায় যেসব শর্ত থাকবে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলবে। কিছু বিষয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে হতে পারে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইএমএফ দেশের অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেয়া কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নিতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপীয় উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সরকার।
তবে নতুন ঋণ কর্মসূচির চূড়ান্ত কাঠামো, ঋণের পরিমাণ, শর্ত এবং অর্থ ছাড়ের সময়সূচি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। ফলে ইতিবাচক আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। ঋণ পাওয়ার পাশাপাশি সেই ঋণ দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও স্থিতিশীলতায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভোগব্যয় বাড়াতে পেনশন ও নগদসহায়তার প্রস্তাব
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক সংস্কারের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুকÑ এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স্ক মানুষের পেনশন সুবিধা বাড়ানো, আয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা পরিবারকে শর্তসাপেে নগদ সহায়তা দেয়া এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে পারিবারিক ভোগব্যয় বাড়ানো সম্ভব।
প্রতিবেদনে দু’টি সম্ভাব্য সংস্কার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথমটিতে বয়স্ক মানুষের দারিদ্র্যের ঝুঁকি কমাতে সরকারি পেনশন সুবিধা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়টিতে আয় কমে গেলে যেসব পরিবার দৈনন্দিন ব্যয় চালাতে সমস্যায় পড়ে, তাদের শর্তসাপেে নগদ সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
আইএমএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উদীয়মান এশিয়ার অর্থনীতিগুলোতে অবসরকালীন পেনশনের প্রতিস্থাপন হার বাড়িয়ে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সাথে ব্যবধানের প্রায় অর্ধেক কমানো যেতে পারে। প্রতিস্থাপন হার বলতে অবসরের আগে পাওয়া আয়ের তুলনায় পেনশন থেকে পাওয়া আয়ের অনুপাত বোঝায়। এ সংস্কারের ফলে উদীয়মান এশিয়ায় পেনশনের প্রতিস্থাপন হার প্রায় ৫৮ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
পেনশন সুবিধা বাড়লে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমতে পারে। এতে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় অতিরিক্ত সঞ্চয়ের প্রয়োজন কমে ভোগব্যয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে এ ধরনের সংস্কারের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ভোগব্যয় বছরে গড়ে ০.৫ থেকে ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
যেসব দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে এবং অবসরকালীন সময় দীর্ঘ হচ্ছে, সেখানে অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এতে মানুষ দীর্ঘ সময় কর্মজীবনে থাকতে পারবে। ফলে শ্রম সরবরাহ ও আয় বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নারীর কর্মসংস্থান বাড়লে উৎপাদনেও প্রভাব
দ্বিতীয় সংস্কার পরিস্থিতিতে আয় কমে যাওয়া পরিবারগুলোর জন্য শর্তসাপেে নগদ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে আইএমএফ। কোনো পরিবারের আয় আয়-বণ্টনের নিচের ১৫ শতাংশের সীমার নিচে নেমে গেলে এ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ব্যয় হতে পারে জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ।
এর পাশাপাশি পুরুষ ও নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ব্যবধান অর্ধেক কমানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ দু’টি উদ্যোগ একসাথে বাস্তবায়ন করা হলে সংস্কার না করার পরিস্থিতির তুলনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উৎপাদন গড়ে ৬.৪ শতাংশ বেশি হতে পারে। এর অর্থ, সামাজিক সুরা শুধু দরিদ্র মানুষের তাৎণিক দুর্ভোগ কমানোর উপায় নয়; সঠিকভাবে নকশা ও বাস্তবায়ন করা হলে এটি সামগ্রিক চাহিদা ও উৎপাদন বাড়ানোরও মাধ্যম হতে পারে। নি¤œ আয়ের পরিবারগুলো সাধারণত বাড়তি আয়ের বড় অংশ খাদ্য, পোশাক, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করে। ফলে তাদেরকে সহায়তা দেয়া হলে অর্থনীতিতে ভোগের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
বাংলাদেশের জন্য নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়লে পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীল শ্রমের সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে এর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, দতা উন্নয়ন, উপযুক্ত কর্মসংস্থান, শিশুযতœসেবা এবং কর্মেেত্র সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংস্কারের অর্থায়নই বড় প্রশ্ন
পেনশন, নগদসহায়তা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আইএমএফ। এ জন্য বিদ্যমান সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং ব্যয়ের দতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কম এবং সরকারের উন্নয়ন ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপ বেশি থাকায় নতুন সামাজিক কর্মসূচি চালুর েেত্র অর্থায়নের প্রশ্ন সামনে আসবে। এ অবস্থায় শুধু নতুন ব্যয় বাড়ানো নয়, বরং বিদ্যমান ব্যয়ের কার্যকারিতা পর্যালোচনা এবং সীমিত সম্পদ কোথায় বেশি সুফল দেবে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সামাজিক সুরা কর্মসূচি এমনভাবে নকশা করা জরুরি, যাতে তা প্রকৃত অভাবগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং একই সাথে মূল্যস্ফীতির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি না করে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








