
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইয়েমেনের হাউছিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গতকাল বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, পবিত্র মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ পেণাস্ত্র ধ্বংস করেছে তাদের বাহিনী। তবে হাউছিরা ওই দিন সৌদি ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। আলজাজিরা ও আহরাম অনলাইন গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘পবিত্র মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ পেণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’ সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তবে পেণাস্ত্রটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত খবরে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
হাউছিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অবশ্য সৌদি জোটের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করছে, আজ সৌদি ভূখণ্ড ল্য করে তারা কোনো অভিযান চালায়নি। পবিত্র মদিনায় হামলার বিষয়ে সৌদি শত্রুর দাবি নির্লজ্জ মিথ্যা।’ ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী মদিনাকে ল্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি এর আগে দিয়েছিল হাউছিরা। গত ১ অক্টোবরও সৌদি আরব দাবি করেছিল, হাউছিদের চালানো ড্রোন হামলায় মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্র আক্রান্ত হয়েছে। সে সময় তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়লেও দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি। সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে ল্য করে হুতি গোষ্ঠীর লাগাতার হামলার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার পেছনেও হাউছিদের দায়ী করেছিল এই সামরিক জোট। আল-মালিকির দেয়া তথ্যমতে, ওই হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লেও জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সরবরাহ সচল ছিল। উল্লেখ্য, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ওপর আরেকটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল জোটটি। তার আগের দিনও ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠী কর্তৃক সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ অভিমুখে নিপ্তি একটি ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছিল যৌথ বাহিনী।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে হাউছিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। অন্য দিকে ২০১৪ সাল থেকেই ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে হাউছিরা।
হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে হাউছিরা
সৌদি আরবের ধাহরান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দফতর ল্য করে হামলার মধ্য দিয়ে দেশটির গভীরে আঘাত হানার সমতা দেখিয়েছে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা। লেবাননের সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জুনি বলেছেন, ইয়েমেন থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরের ল্যবস্তুতে হামলা হাউছিদের পেণাস্ত্রের পাল্লা ও সমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। আলজাজিরাকে জুনি বলেন, সৌদি আরব পেণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে পারলেও এ ধরনের হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ও গুরুতর হুমকি। এ দিকে এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সাথে সঙ্ঘাতের ৩৭ দিনে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার কিলোমিটার এলাকার দখল নিয়েছে হাউছি বিদ্রোহীরা।
হাউছিদের দাবি, সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ ল্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবেই এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হাউছিদের হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। রয়টার্সকে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর আগুন কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় সীমিত পরিসরে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সূত্রগুলোর দু’জনের তথ্যানুযায়ী, আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। কর্মীরাও বাড়ি থেকে কাজ করছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎণিকভাবে সাড়া দেয়নি কোম্পানিটি।
ইইউ-জিসিসি সম্মেলন স্থগিত
এ দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনের নতুন তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সম্মেলনে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সম্ভবত নিরাপত্তাজনিত কারণে’ রিয়াদের বৈঠকটি স্থগিত করা হবে। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা এলো। তবে ইউরোপীয় কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিতের কারণ জানায়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








