
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
এবারের এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকিতে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর পুরস্কার হিসেবে ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের জলান্ধরে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে বাংলাদেশ হকি দল। একই সাথে আগামী বছরের শেষে বা ২০২৮ সালের শুরুতে অলিম্পিক বাছাই হকিতে খেলার সুযোগ মিলেছে। যা অনুষ্ঠিত হবে ল্যাটিন আমেরিকার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত দেশ চিলিতে। এই দুই আসরের বাইরে আরো আন্তর্জাতিক আসর আছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এপ্রিলের এস এ গেমস হকি। যেখানে নারী ও পুরুষ হকি দল অংশ নেবে।
সিডিউল এই তিন টুর্নামেন্টের বাইরে আরো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। বাংলাদেশ দল ডিসেম্বরে মিসরে যাবে ৫-এ সাইড সিনিয়র বিশ্বকাপ হকি খেলতে। ডিসেম্বরেই ওমানে নেশনস কাপ। যেখানে অংশ নেবে এশিয়া ও ইউরোপের দশটি দল। এস এ গেমসের আগে পাকিস্তানে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হবে। সেই টুর্নামেন্টেরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে ১০ দলের। বাংলাদেশ এই দুই আসরেও দল পাঠাবে। জানান বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স। তার দেয়া তথ্য, ৫ এ সাইড সিনিয়র বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার কথা ছিল পাঁচ দলের। কিন্তু আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন ছয় দলকে খেলার সুযোগ দেয়ায় বাংলাদেশের খেলার সুযোগ হয়েছে।
বাংলাদেশ দল এখন অলিম্পিক গেমস হকির বাছাইয়ে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এ জন্য এপ্রিলের এসএ গেমসের পরপরই হকি দলকে ইউরোপে পাঠানো হবে লম্বা জন্য। প্রিন্স জানান, ‘ আমরা ছয় মাসের জন্য ৩০ জন হকি খেলোয়াড়কে ইউরোপে পাঠাবে পাঁচ-ছয়টি দেশে লিগ খেলার জন্য। এতে আমাদের খরচ যেমন বাঁচবে তেমনি খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞতা বাড়বে। স্কিলেরও উন্নতি হবে। মার্চে শুরু হবে ইউরোপিয়ান দেশগুলোর লিগ। আমরা মার্চেই তাদের ইউরোপে পাঠানোর জোর চেস্টা চালাচ্ছি।’ জাতীয় দলের সাবেক এই খেলোয়াড় আরো জানান, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের লিখে তাদের খেলানোর জন্য চেষ্টা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩ জনের ক্লাব চূড়ান্ত হয়েছে। এরা সেখানকার প্রথম বিভাগ লিগে খেলবে। এই কাতারে আছেন আমিরুল, আশরাফুল, রোমানরা। অন্যদের আমন্ত্রণ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু খেলোয়াড় দ্বিতীয় বিভাগের লিগে খেলবে। তবে সমস্যা হচ্ছে কিছু দিন আগে নেদারল্যান্ডস গিয়ে আর ফিরে আসেননি বাংলাদেশ হকি দলের দুই অনূর্ধ্ব-৫০ বয়সী অনিক ইসলাম, বাচ্চু গাজী। এ কারণে জার্মান দূতাবাস ভিসা দিচ্ছে না হকি সংশ্লিষ্ট কাউকে। প্রিন্স জানান, ‘সেপ্টেম্বরে জামিনসহ তিন হকি খেলোয়াড় ইউরোপে খেলার জন্য জার্মান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করলে প্রত্যাখ্যাত হন। এরপর আমিও ভিসার আবেদন করে ভিসা পাইনি। পরে জানতে পারে ওই দুইজনের পালানোর ঘটনা। যা আগের কমিটির সময় ঘটেছিল।’ এই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। প্রিন্স জানান, আমরা জার্মান কোচ পিটার গ্রেরহার্ডকে আবার জাতীয় দলের দায়িত্ব দিচ্ছি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য। তিনি আসলে তাকে জার্মান দূতাবাসে পাঠানো হবে ভিসা নিয়ে জটিলতার অবসানের জন্য। জট খুললে আমাদের নভেম্বরের মধ্যেই ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। মার্চে ইউরোপিয়ান লিগ। তাই নভেম্বরে আবেদন না করলে ভিসা পাওয়া যাবে না। কারণ শুনেছি ২৬ হাজার ভিসার আবেদন জমা পড়েছে জার্মান দূতাবাসে।
হকি ফেডারেশনের পক্ষে এখন এই আসরগুলোর জন্য টাকা জোগাড়ই কঠিন হয়ে গেছে। প্রিন্স জানান, আমরা শিগগিরই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে বসব এ বিষয়টি নিয়ে।
আন্তর্জাতিক আসরের সাথে এখন প্রিমিয়ার হকি লিগও শুরুর চেষ্টা করছে ফেডারেশন। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রথম বিভাগ হকি লিগ। প্রিন্স জানান, আমরা ডিসেম্বর- জানুয়ারিতে প্রিমিয়ার হকি লিগ শুরু করার চেষ্টা করছি।
পুরুষদের পাশাপাশি বাংলাদেশ নারী হকি দলও ভালো করছে। এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দল সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে নবম হয়েছে। এ ছাড়া ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল কাজাখস্তানের সাথে। এখন নারী হকি লিগও শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেশন। প্রিন্সের দেয়া তথ্য, আমরা ছয় দল নিয়ে নারী হকি লিগ শুরু করতে চাই প্রিমিয়ার পুরুষ হকি দলের সাথেই। ইতোমধ্যে চারটি দল চূড়ান্ত হয়েছে নারী লিগের জন্য। মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া, বসুন্ধরা কিংস, এবং ঊষা ক্রীড়া চক্র সম্মতি দিয়েছে নারী লিগে খেলার। এখন আমরা আবাহনী ও মেরিনার্সকেও আমন্ত্রণ জানানো নারী লিগে দল গড়তে।
ইউরোপে যাচ্ছেন নারী হকি খেলোয়াড়রা
বাংলাদেশের হকি খেলোয়াড়দের ইউরোপে গিয়ে খেলাটা অনেক আগ থেকেই। এবার নারী হকি খেলোয়াড়রাও ইউরোপে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স জানান, আমরা চারজন নারী হকি খেলোয়াড়কে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করছি। যদিও নাম তালিকায় রেখেছি ছয়জনের। এশিয়ান গেমসে আমাদের যে নেদাল্যান্ডসের কোচ ছিল অলিভার কার্স তিনি দুইজন খেলোয়াড় চেয়েছেন। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট-ভিত্তিক দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবের জন্য। এই দুইজন কনফার্ম হয়েছেন। তারা হলেন- অর্পিতা পাল এবং আইরিন আক্তার রিয়া। এখন আমরা আরো দুইজন খেলোয়াড়কে নেদারল্যান্ডস লিগে খেলানোর ব্যবস্থা করার জন্য অলিভারকে অনুরোধ করেছি। আমরা চাই তাদের মাধ্যমে শুরু হোক নারী হকি খেলোয়াড়দের ইউরোপে যাওয়া।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








