ইসলামোফোবিয়া বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি ১৫৮ শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কর্তৃক একজন নিকাব পরিহিতা ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ১৫৮ জন শিক্ষক অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি ইসলামোফোবিয়া বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’-এর এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিকাব পরিহিতা এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে প্রকাশ্যে অপমান ও বডি শেমিংয়ের মাধ্যমে হেনস্তা করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘অডিও রেকর্ডে একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পোশাক, ধর্মীয় রীতিনীতি এবং শারীরিক গঠন নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য পরিলক্ষিত হয়েছে। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের অসংবেদনশীল ও বৈষম্যমূলক আচরণ কখনোই প্রত্যাশিত হতে পারে না। তবে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী দৃশ্যমানভাবে ধর্মপালনকারী দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, সদ্য স্নাতক ও তরুণ পেশাজীবীদের ৫৫.৭% সরাসরি শিক্ষাগত বা পেশাগত পরিসরে বৈষম্য ও হেনস্তার মুখোমুখি হয়েছেন এবং ৬৩.৪% ক্ষেত্রে ইসলামোফোবিয়ার ঘটনার জন্য দায়ী হচ্ছেন শিক্ষকরা। পুরুষদের তুলনায় হিজাব-নিকাব বা ধর্মীয় পোশাক পরিহিতা নারীরাই ইসলামোফোবিয়ার প্রধান শিকার হচ্ছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।’  বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে না দাঁড়িয়ে নৈতিকতা-বিবর্জিত কিছু শিক্ষক ও তাদের সংগঠন একাডেমিক স্বাধীনতা ও শিক্ষকের অধিকারের দোহাই দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সাফাই গাইছেন। শ্রেণিকক্ষে প্রকাশ্য হেনস্তাকে একাডেমিক আলোচনার অজুহাতে আড়াল করা কিংবা সহকর্মীকে সুরক্ষা দেয়ার এই নির্লজ্জ মানসিকতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একাডেমিক স্বাধীনতার নামে কারো ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ বা কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করা বৈধ হয়ে যায় না।’ বিবৃতি প্রদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে ৩৫ জন অধ্যাপক, ২৭ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৪৫ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৫১ জন প্রভাষক রয়েছেন। তাদের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মূল্যবোধ ডট কম (সঁষষড়নড়ফয.পড়স) সাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতি দাতাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মানজুরুল করিম ও অধ্যাপক ড. জুলফিকার হাসান খান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ মাসুদ করিম, ডুয়েটের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: আতিয়ার রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মো: আরিফ মোর্শেদ খান, মেডিক্যাল কলেজ ফর ওমেন অ্যান্ড হসপিটালের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মিলিভা মোজাফফর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাফিউল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ, মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মীর মনজুর মাহমুদ প্রমুখ।