উপসাগরীয় ইন্টারনেটে হামলার হুমকি ইরানের

 আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে পূর্ণমাত্রায় সংঘাত বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগত ডাটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ও সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হতে পারে বলে গুরুতর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। এই হুঙ্কার ঘিরেই মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত বিকশিত ডিজিটাল অর্থনীতি এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলের কিছু অংশ গত মাসে ইরান-সমর্থিত হাউছিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা আরো হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হাউছিদের মধ্যে বাব আল-মানদেব প্রণালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তীব্র লড়াই চলছে। বিশ্বজুড়ে মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংবেদনশীল প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এর আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পূর্ববর্তী সংঘাতে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ডাটা সেন্টার এবং মার্কিন বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তেহরান সে সময় দাবি করেছিল, বেসামরিক ইরানি স্থাপনায় মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই ওই পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।
গত জুনে দুই পক্ষের সমঝোতার পর বড় ধরনের সরাসরি যুদ্ধ আপাতত থিতু হলেও হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক জলপথে নৌযানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই বিশাল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আসলে কতটা নাজুক এবং সম্ভাব্য হামলা কিভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে আঁচ ফেলতে পারে?
 ডাটা সেন্টার ও ইন্টারনেট ক্যাবল কেন এত অরক্ষিত?
গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সম্পাদিত ডিজিটাল ডাটা আদান-প্রদানের ৯০ শতাংশেরও বেশি অংশ লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ক্যাবলগুলোর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। এই ক্যাবলগুলো বাব আল-মানদেব প্রণালী হয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে, যার সবচেয়ে সঙ্কীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ২৬ কিলোমিটার। ফলে সামুদ্রিক জাহাজের নোঙরের আঘাতে কিংবা সুপরিকল্পিত নাশকতার মাধ্যমে এগুলো সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ক্যাবল দ্রুত মেরামত করাও অত্যন্ত দুরূহ, কারণ মেরামতের সাথে যুক্ত জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা তখন জটিল হয়ে দাঁড়ায়। অন্য দিকে, ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার মূল কেন্দ্র হলো ডাটা সেন্টার।
ইরানের ধারাবাহিক হুমকি ও কৌশলগত চাপ
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তি অবকাঠামোগুলোকে নিজেদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে তেহরান। গত মার্চে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু’ শীর্ষক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা গুগল, মাইক্রোসফট ও ওরাকলের ক্লাউড অবকাঠামোর কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

Advertisement