
শাহেদ মতিউর রহমান
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে অনিয়ম করায় কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছে খ্যাতিমান পাঁচটি প্রেস। একই সাথে আরো প্রায় দুই ডজন প্রেসকে দেয়া হয়েছে সতর্কতামূলক নোটিশ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কড়া নজরদারি সত্ত্বেও এসব প্রেস মালিকরা নানা কৌশলে ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের কাগজ কালি ব্যবহার এবং খুলে যাওয়া বই সরবরাহ করার চেষ্টা করেছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবির মনিটরিং টিম, পিডিআই এজেন্ট (প্রি ডেলিভারি ইন্সপেকশন) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতেই এসব প্রেসকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নিম্নমানের বই মুদ্রণ কাজের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ পাওয়া এমন দুইটি প্রেসকে দুই দফায় সতর্ক করা হয়েছে। এবার দুই দফায় নোটিশ দেয়ার পরেও যারা ভালো বই দেয়ার কাজে গাফিলতি বা কোনো শৈথিল্য প্রকাশ করবে তাদেরকে কোনো কারণ ব্যতিরেকেই ভবিষ্যতের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। আর সেই বিচেনায় ইতোমধ্যে আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড (মালিক আওয়ামী লীগের নেতা রব্বানি জব্বার) এবং সরকার প্রেস (মালিক ওমর ফারুক) এই দু’টি প্রেসকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্য দিকে মাধ্যমিকে পর্যায়ের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজে নিয়োজিত বর্ণমালা প্রেস, মৌসুমী অফসেট প্রেস এবং শৈলী প্রিন্টার্স এই তিনটি প্রেসকে পরপর দুই দফায় সতর্ক করে নোটিশ দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের মিলে মোট এই পাঁচটি প্রেস ইতোমধ্যে সবার নজরে রয়েছে। আগামী দিনে এসব প্রেসকে এনসিটিবির কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে জানা গেছে। অন্য দিকে নিম্নমানের কাজের জন্য ইতোমধ্যে একবার করে নোটিশ দেয়া হয়েছে এমন একটি তালিকাও তৈরি করেছে এনসিটিবি। এই তালিকায় রয়েছে (প্রাথমিক পর্যায়ের) লিখন আর্টস প্রেস, গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট, সাগরিকা প্রিন্টার্স, ফাইভ স্টার প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, ইন্টারনেট ওয়েব প্রিন্টার্স, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লি:, টাইমস মিডিয়া, মেসার্স রেজা প্রিন্টার্স, আনোয়ার প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স, মেঘদূত প্রিন্টিং প্রেস, লেটার অ্যান্ড কালার প্রেস। একই সাথে মাধ্যমিকের বই মুদ্রণের কাজে নিয়োজিত প্রেসগুলোর মধ্যে একবার করে নোটিশ দেয়া হয়েছে দোয়েল প্রিন্টার্স, রশিদ প্রেস, রেজা প্রেস, রিফাত প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, দিগন্ত অফসেট প্রিন্টার, দশদিশা প্রিন্টার্স, সোনালী ওয়েব প্রিন্টার্স, মেসার্স মেরাজ প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, সরকার প্রেস।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: ফখরুল মাওলা নয়া দিগন্তকে জানান, এবার আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মানসম্পন্ন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে। তাই শুরু থেকেই আমরা বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিমের কাজকে আরো গতিশীল করতে উদ্যোগ নিয়েছি। অবশ্য এর সুফল আমরা পাচ্ছি। বিশেষ করে ইতোমধ্যে প্রেস মালিকরা তাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী কাজের মান নিয়ে কোনো গাফিলতি করছেন না। তবে কিছু কিছু প্রেসকে আমরা সর্বদাই নজরদারিতে রেখেছি। কাজের সময় এবং মান নিয়ে আমরা একচুলও ছাড় দিচ্ছি না এবং দেবোও না। আশা করছি কড়া নজরদারির কারণেই এবার সময়মতো মানসম্পন্ন বই পাবে সব শিক্ষার্থী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








