ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি, মার্চে দৃশ্যমান হবে পদ্মা ব্যারাজ

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ঢাকার সাথে ভারতের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হবে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করা।
একই সাথে আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিস্তা বহুমুখী মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। দেশের মোট অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পাবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এখন কাজ দৃশ্যমান করার পর্যায়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে।
তিস্তা নিয়ে কারিগরি যাচাই
তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। উজান থেকে পানিপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে দেশে অনেক সেমিনার ও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা চলছে।
তাদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেয়া আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, শিগগিরই তিস্তা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু করতে হবে। ওই স্টাডির ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রকল্পের মূল কাজ এগিয়ে নেয়া হবে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করতে সময় লাগবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একই বছরে প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু করা।
১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় প্রথমবারের মতো গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে করা চুক্তিতে সেই গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।
১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠক ও আলোচনার ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনা।
দেশের মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে বড় চাপ
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তার তীরে বসবাসকারী মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই রাতারাতি কিংবা এক-দুই মাসে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি। তাই আমাদের সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।