আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে পরা বিশাল গর্বের : মেসি

 ক্রীড়া ডেস্ক
একটি যুগের অবসান। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকেরও বেশি সময় বিচরণের পর বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের মধ্য দিয়ে আকাশি-সাদা জার্সি গা থেকে উঠিয়ে রাখলেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে গতকাল আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার মহাতারকা। মেসির বিদায়ী মুহূর্তই হয়ে উঠেছিল রাতের সবচেয়ে বড় ঘটনা। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে বিদায়ী বক্তব্যে তিনি স্মরণ করেছেন পরিবার, সতীর্থ ও সমর্থকদের। 
সম্প্রতি বাবাকে হারিয়েছেন মেসি। সেই শোকও তার বিদায়ের আবেগকে আরো ভারী করে তুলেছিল। মেসি বলেন, ‘কথা বলা কঠিন। অনেক আবেগ, অনেক কিছু মাথার মধ্যে ঘুরছে। প্রথমেই আমার বাবার কথা মনে পড়ছে।’
আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দুই দশকেরও বেশি সময় কাটানোকে জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘এই জার্সি এত বছর পরার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বিশাল গর্বের বিষয়। সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতেও আমি লড়াই থামাইনি, সবসময় এখানে থাকতে চেয়েছি।’
বিদায়ের কষ্টের কথাও অকপটে জানিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তার ভাষায়, ‘আর এখানে না আসাটা খুব কষ্ট দেবে। আমি সত্যিই সারাজীবন এখানে আসতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা তোমার জীবনে ঘটতে পারে- এমন সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার।’
মেসি আরো বলেন, ‘আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ পথচলায় সতীর্থদের অবদান ছিল অপরিসীম। তাদের সহায়তায় বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে  কৃতজ্ঞতা জানাই সতীর্থদের। জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানানো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিষণœ দিন। তবে এখন থেকে মাঠের বাইরে থেকেও দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচই হয়ে থাকল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড নিজের করে বিদায় নিলেন তিনি। অশ্রুসিক্ত এক রাতে শেষ হলো বিশ্বকাপ, দু’টি কোপা আমেরিকাসহ অসংখ্য অর্জনে সাজানো মেসির ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
মেসির শেষ বার্তাটিও ছিল ভালোবাসায় ভরা- ‘আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি, তোমাদের সবাইকে মিস করব। আমি আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত।’

Advertisement