সিএমএম আদালতে হাতকড়া খুলে ফের পালাল আসামি শরিফুল

 নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সুরক্ষিত সীমানা এবং কাঠগড়া থেকে পুলিশ সদস্যের চোখ ফাঁকি দিয়ে শরিফুল ইসলাম শফিক নামের এক বিচারাধীন আসামি পুনরায় হাতকড়া খুলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত বছর আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর দায়ের হওয়া যে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার সেই মামলার হাজিরার দিনই সিএমএম আদালতের ৭ নম্বর এজলাস থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পালিয়ে যান তিনি। 
দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের চরম অবহেলা ও অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে এই পলায়নের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা হয়েছে নতুন মামলা।
জানা যায়, শরিফুল ইসলামের আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়; এর আগেও তিনি একই কৌশলে পালিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে খিলগাঁও থানার আলোচিত কিশোর জিসান হোসেন হত্যা মামলায় শরিফুলকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেয়ার পথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আঘাত ও মারধর করে হাতকড়া খুলে প্রথম দফায় পালিয়ে যান শরিফুল।
ওই ঘটনায় ওই দিনই তৎকালীন আদালত হাজতখানার ইনচার্জ মো: রিপন মোল্লা বাদি হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় শরিফুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে ফের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। গতকাল সেই পুরনো পলায়নের মামলার সাক্ষ্য দিতে এসেই দ্বিতীয়বারের মতো পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে চম্পট দিলেন এই আসামি।
ঘটনার পরপরই সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়িত্বে অবহেলা ও অন্যমনস্কতার জন্য কনস্টেবল আবদুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল আরো জানান, পুরো ঘটনাটির তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয়বার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সিএমএম আদালতের হাজতের ইনচার্জ এসআই মো: মোরশেদ আলম বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে আরো একটি মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক আসামি শরিফুল ইসলামকে পুনরায় গ্রেফতারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহম্মেদের ছেলে শরিফুল ইসলামকে মঙ্গলবার সকালে কারাগার থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জামসেদ আলমের আদালতে (৭ নম্বর এজলাস) তোলা হয়। ওই দিন কোতোয়ালি থানার এক মামলায় তার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আদালতে কোনো সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় শুনানি শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।

Advertisement