এইচএসসি পরীক্ষা, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
এইচএসসিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি। ফাইল ছবি

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

Advertisement

এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় সাতটি, জামালপুরে চারটি, নেত্রকোনায় ছয়টি এবং শেরপুরে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ময়মনসিংহ জেলার সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আদর্শ হাইস্কুল, ঈশ্বরগঞ্জের কোণাপাড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চরজিথর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দাইলের বারিল্লা কে এ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজ, তারাকান্দা এইচ এ ডিজিটাল কলেজ ও আউলিয়ানগর কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে দুই, ছয়, এক, এক, দুই, ২৬ ও পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

জামালপুর জেলার চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইসলামপুরের গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামালপুর সদরের শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম গার্লস স্কুল, মাদারগঞ্জের নয়াচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মেলান্দহের এস এম শিখা মুখলেছুর রহমান কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে সাত, ছয়, চার ও একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

নেত্রকোনা জেলার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ, পূর্বধলার খালিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অ্যাম্বিশন মডেল কলেজ, জোবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ এবং নেত্রকোনা সদরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য-সংশ্লিষ্ট একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে এক, চার, ১৬, ছয়, দুই ও চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

অন্যদিকে, শেরপুর জেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইগাতীর আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নঈম মডেল কলেজ এবং শেরপুর সদরের মনমথ দে কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে একজন ও সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭০ হাজার ৬৭৩ জন পরীক্ষার্থী ১১৩টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুই হাজার ১৩৭ জন।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ জানতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কলেজগুলোকেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: শাহাদত উল্লাহ জানান, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই গণিত, ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পাস করতে পারেননি। তবে এসব শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো: এনামুল হক বলেন, ‘ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীন অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময় করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পরে সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। এবারের পরীক্ষায় কিছু প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কেন এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম, তা যাচাই-বাছাই করে কারণ শনাক্তের চেষ্টা করবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

অন্যদিকে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক অবস্থান সন্তোষজনক বলে দাবি করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ফলাফলের বিভিন্ন সূচকে এ বোর্ড তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।