পীরগাছায় সারের ডিলারশিপে ‘সর্বদলীয়’ ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ

 রংপুর ব্যুরো

Advertisement

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, বিভিন্ন দলীয় নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্তকরণ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার স্বাক্ষরিত ও অফিসিয়াল প্যাডে দেয়া ১৯ জনের একটি সুপারিশকৃত তালিকা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তা এই ধরনের তালিকার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া এবং গত ১৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডের একটি নথি সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের জন্য মোট ১৯ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে পীরগাছা সদর ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নে তিনজন করে এবং অন্যান্য ছয়টি ইউনিয়নে দু’জন করে এবং কান্দি ইউনিয়নে একজনের নাম দেয়া রয়েছে।
নথির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তালিকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী, ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর সন্তান, শ্বশুর, ভাই ও স্বজনদের নাম রাখা হয়েছে। যেমন-অন্নদানগর ইউনিয়নে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেসের স্ত্রী সুইটি বেগম এবং ওই ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতির অনার্স পড়ুয়া কন্যা জয়িতা আক্তার জিনির নাম রয়েছে। একই সাথে তালিকায় বিএনপি নেতাকর্মী ছাড়াও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা, জামায়াত কর্মী, জাতীয় পার্টি ও বাসদের নেতাকর্মীদের নামও যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য মতে, তাম্বুলপুরে সাবেক এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতির ছেলে ও এক জামায়াত কর্মীর নাম রয়েছে। পীরগাছা সদরে রাখা হয়েছে জাতীয় পার্টির সভাপতির ঘনিষ্ঠ এক কর্মীর নাম। এ ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে বিএনপি ও কৃষক দলের বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীলদের স্বজনদের নাম সুপারিশে উঠে এসেছে। তালিকায় নাম সুপারিশের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ডিলারশিপ দেয়ার বিনিময়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে। এ নিয়ে সোচ্চার হওয়া কান্দি ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত এক প্রচার সম্পাদককে দলীয়ভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ লেনদেনের এই অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
তালিকার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগের জন্য আমি কোনো তালিকা ইউএনও কার্যালয় বা কৃষি অফিসে দিইনি।’ তবে লিখিত নথিটি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি না দেখে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, বিএনপির সভাপতির কাছ থেকে এমন কোনো তালিকা পাওয়ার সুযোগ নেই এবং রাজনৈতিক সুপারিশে ডিলার নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী জেলা কমিটির চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হচ্ছে।