
ডন
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের সুচিকিৎসা ও মুক্তি নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনায় বসেছিল তার দল পিটিআই। তবে দুই দফায় হওয়া এ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন রাজপথে নেমেছে তারা। শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া আলোচনা গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত চলেছে। কিন্তু সকালের দিকে এটি ভেঙে যায়। এরপর গতকাল স্থানীয় সময় বেলা দেড়টা থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে তারা।
পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রদেশ থেকে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদে আসবেন। বিভিন্ন জায়গায় বিরতি দিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন তারা। পিটিআই প্রথমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের লংমার্চের সময় নির্ধারণ করেছিল; কিন্তু ইসলামাবাদে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের পর রক্তক্ষয়ের আশঙ্কায় সে দিন কর্মসূচি স্থগিত করে এটি ৪ অক্টোবর নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই পাকিস্তান সরকার পিটিআই নেতাদের সাথে আলোচনায় বসেন; কিন্তু আলোচনাটি সফল হয়নি। জানা গেছে, আলোচনায় পিটিআইয়ের প্রধান দাবি ছিল ইমরান খানের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে দিতে হবে, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে, যেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। এর সাথে আরো দাবি ছিল, ইমরানের তিন আটক বোনের মুক্তি ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়া।
২০২৩ সাল থেকে কারাগারে বন্দী আছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ কুক্ষিগত করার অভিযোগ এনে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। তিনি রাওয়ালপিন্ডির হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দী আছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ ইমরানের সাথে নেতাদের যোগাযোগ করতে না দেয়া। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, পিটিআইকে আগে লংমার্চ বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে এরপর ইমরানের সাথে দেখা করা নিয়ে কথা হবে। কিন্তু পিটিআই জানায়, দলীয় প্রধানের সাথে সরাসরি দেখা না করা পর্যন্ত লংমার্চের কর্মসূচি নিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। গত মাসের শেষ দিকে যখন ইসলামাবাদে লংমার্চ ঘোষণা করা হয়, তখন সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া দেশটির সরকার ইসলামাবাদের সব হাসপাতালকে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেয়। যা নির্দেশ করছিল, পিটিআইয়ের বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালানো হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








