সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ


বাংলাদেশের ১৫তম রাষ্ট্রপতি এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। দেশের মানুষের কাছে তিনি ডা. বি. চৌধুরী নামে পরিচিত ছিলেন।
১১ অক্টোবর ১৯৩০ সালে তিনি কুমিল্লায় নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কফিলউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল থেকে ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস, পরে লন্ডন, এডিনবরা ও গ্লাসগো থেকে কৃতিত্বের সাথে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে ডা. বি চৌধুরী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন  শুরু করেন।
চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক জীবন : ষাটের দশকে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আপনার ডাক্তার’-এর উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি একাধারে লেখক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সুবক্তা হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পান।
রাজনৈতিক জীবন : ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ডা. বি. চৌধুরী রাজনীতিতে আসেন। ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব নিযুক্ত হন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংসদে সরকারি দলের উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। 
তিনি মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। স্বাধীন চিন্তার অধিকারী ডা. বি. চৌধুরী সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতির অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে তিনি নিজ ইচ্ছায় ২০০২ সালের ২১ জুন মাত্র সাত মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে এক বিরল নজির স্থাপন করেন। ২০০৪ সালের ৮ মে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ৯৩ বছর বয়সে তারই প্রতিষ্ঠিত ঢাকার উত্তরা মহিলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
ডা. বি. চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিষ্ঠিত দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ বেশকিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে রয়েছে- কুরআন খতম এবং মরহুম ডা. বি. চৌধুরীর কবর জিয়ারত এবং কবর সংলগ্ন মসজিদে জোহর বাদ তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা। মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্র-শিক্ষক ও অতিথিদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি।

Advertisement