মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্রাজিল ছাড়ার বিষয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর নেয়া ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে যত দিন ইচ্ছা থাকতে পারবেন।

Advertisement

রোববারের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে পরাজিত হওয়ার পর গত বুধবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান বলসোনারো। তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত অব্যাহত থাকায় আদালতের নির্দেশে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল।

জর্জিয়ার আটলান্টায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‘এর আগে তার ভিসা ছিল। প্রেসিডেন্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

দুই দিনব্যাপী জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আয়োজক হিসেবে উপস্থিত রুবিও আরো বলেন, ‘নিজ দেশ ছাড়ার বিষয়ে বলসোনারো যে ব্যবস্থা করেছিলেন, তাতে মার্কিন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল না।’

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ৪৫ বছর বয়সী বলসোনারো আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর হয়ে একটি বিমানে ব্রাজিল ত্যাগ করেন। 

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানটি ভাড়া করেছিলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা জেসন মিলার।

এদিকে, বলসোনারো পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত বিমানের ভাড়া মার্কিন ব্যাংক হিসাব থেকে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছিল বলে বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রধান।

ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় বলসোনারোর সাথে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান ট্রাম্প। 

তবে ব্রাজিলের এই ডানপন্থী সিনেটরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয়েছে। খুবই খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তাই তিনি যত দিন ইচ্ছা এখানে থাকতে পারবেন।’

এদিকে ব্রাজিলের একটি কূটনৈতিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানিয়েছে, বলসোনারোকে ব্রাজিল থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে ‘নিয়মিত বৈঠকে’ তলব করা হয়েছিল।

তবে পরে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রাজিল বুয়েনস এইরেসের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর থেকে বলসোনারো নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা বলে দাবি করে আসছেন। 

একইসাথে তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ শিকার হওয়ায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন।

সূত্র : বাসস