ফণা তুলছে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষরা

 রফিকুল হায়দার ফরহাদ
দেশের মাঠেই বাংলাদেশ জাতীয়  ফুটবল দলের একমাত্র সাফ শিরোপা জয়। তা সেই ২৩ বছর আগে ২০০৩ সালে। আর এই আসরে সর্বশেষ ফাইনালে খেলা ২০০৫ সালে পাকিস্তানের করাচিতে। এরপর দেশের মাঠে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে দুইবার সাফের আয়োজক হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে কখনই আর সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরুতে পারেনি। আট বছর পর এবার ফের ঢাকায় হতে যাচ্ছে সাফ ফুটবল। ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে জামাল ভূঁইয়া- হামজা চৌধুরীদের প্রথম ম্যাচ। হামজা চৌধুরী আসার পর দেশের ফুটবলে নব জাগরণ শুরু হয়েছে। এরই ফলে ফের সাফ শিরোপা জয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছিল দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু আসিয়ান কাপে লাল-সবুজদের চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স, তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম এবং বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-৯ গোলে হার সব প্রত্যাশাকেই প্রশ্ন বিদ্ধ করেছে। সে সাথে প্রতিপক্ষরা অতি সম্প্রতি যে ফর্মে আছে, তাতে বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারটা কঠিন চ্যালেঞ্জের দিকেই ঠেলে দিয়েছে।
সাফের প্রস্তুতি হিসেবেই আসিয়ান কাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেখানে গিয়ে মালয়েশিয়ার কাছে ০-৩, সিঙ্গাপুরের কাছে ০-১ এবং ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-৯ গোলে হার। বিপরীতে এবারের আসিয়ান কাপে পাকিস্তান ০-৪ গোলে থাইল্যান্ডের কাছে হারলেও পরের ম্যাচেই পাকিস্তান ২-২ গোলে রুখে দেয় ফিলিপাইনকে। এরপর ভিয়েতনামের বিপক্ষে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ২-৪ গোলে হার। পাকিস্তানের ফুটবলের এই জাগরণ সাফে বাংলাদেশের ট্রফি পুনরুদ্ধারের জন্য টেনশনের কারণ। এখনো সাফ ফুটবলে শিরোপা জিততে পারেনি পাকিস্তান। তবে জুনে তারা মালদ্বীপের ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আফগানিস্তানকে হারিয়ে। গ্রুপ লিগে তারা মালদ্বীপকে ৩-০ এবং আফগানিস্তানকে ২-০তে পরাজিত করেছিল। এই টুর্নামেন্টে অবশ্য বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের সাথে গোলশূন্য ড্র করেছিল পাকিস্তান।
সাফে বাংলাদেশের গ্রুপে (‘এ’) আছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। শ্রীলঙ্কা দুই ফিফা প্রীতিম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র সেশেলসের বিপক্ষে তাদের মাঠেই ৩-০ ও ২-১ এ জিতেছে লংকানরা। ভুটান অবশ্য এবারের ফিফা উইন্ডোতে কোনো ম্যাচ খেলেনি।
সাফ ফুটবলে কখনই চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি নেপাল। ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা কোনো ম্যাচও খেলতে পারেনি। এই সাসপেনশনের জন্যই নেপাল নেই এবারের সাফে। সাফের আগে ফিফার নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হলে খেলতে পারবে সাফে। খেলবে বাংলাদেশের গ্রুপেই।
সাফ ফুটবলে সর্বাধিক ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেও ব্রাজিল গিয়ে খেলতে না পারা ভারতের চিন্তা চেতনা এখন অনেক উচুতে। ভারত পরশু প্রীতিম্যাচ খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সাথে। আগামীকাল তাদের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী উরুগুয়ের সাথে। বাংলাদেশ যেখানে নিজ নামে বিশ্বকাপ খেলতে না পারা ইন্দোনেশিয়ার কাছে খড় কুটোর মতো উড়ে গিয়ে ২-৯ গোলে হেরেছে, সেখানে ভারত চমৎকার খেলেছে ব্রাজিলের সাথে। যদিও হারতে হয়েছিল ০-৪ গোলে। এর আগেই ২৮ সেপ্টেম্বর তারা ১-১ গোলে ড্র করেছে এবারের বিশ্বকাপে খেলা দল পানামার সাথে। এ বছর ২৭ মে ভারত ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে খেলা জ্যামাইকার কাছে ০-২ গোলে হেরেছে। এ ছাড়া ভারত এ বছর হংকংয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতলেও জিম্বাবুয়ের কাছে ০-১, তাজিকিস্তানের কাছে ১-৩ গোলে হেরেছে। যদিও পরের ম্যাচে তাজিকদের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। উল্লেখ্য, ১৯৩৪ সালে ইন্দোচীন নামে খেলেছিল সাফের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ। তবে ১১৯২ দ্বীপের এই দেশটির সাম্প্রতিক ফুটবল ফর্ম মোটেই ভালো নয়। এই ফিফা উইন্ডোতে তারা চীনের কাছে ০-৩ গোলে, কিরগিজস্তানের কাছে ০-৫ গোলে এবং লেবাননের কাছে ০-৬ গোলে হেরেছে। জুনে নিজ মাঠে হওয়া ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবলে কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি। আফগানিস্তানের কাছে ০-১, পাকিস্তানের কাছে ০-৩ গোলে হারের পর বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। এবারের সাফে অবশ্য ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ নেই বাংলাদেশের গ্রুপে। তবে বাংলাদেশ সেমিতে গেলে তাদেরই মুখোমুখি হতে হবে।
বাংলাদেশ অবশ্য আসিয়ান কাপে খেলার আগে জুনে সান মেরিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছিল। এর আগে মার্চে ভিয়েতনামের কাছে প্রীতিম্যাচে ০-৩ গোলে হেরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের কাছে ০-১ গোলে হার মানে।

Advertisement

সাফের দলগুলোর এ বছরের পারফরম্যান্স

বাংলাদেশ 
বাংলাদেশ ০-৩ ভিয়েতনাম
বাংলাদেশ ০-১ সিঙ্গাপুর
বাংলাদেশ ২-১ সানমেরিনো
বাংলাদেশ ০-৩ মালয়েশিয়া
বাংলাদেশ ০-১ সিঙ্গাপুর
বাংলাদেশ ২-৯ ইন্দোনেশিয়া
ভারত 
ভারত ২-১ হংকং
ভারত ০-২ জ্যামাইকা
ভারত ০-১ জিম্বাবুয়ে
ভারত ১-৩ তাজিকিস্তান
ভারত ১-১ তাজিকিস্তান
ভারত ১-১ পানামা
ভারত ০-৪ ব্রাজিল
পাকিস্তান
পাকিস্তান ১-২ মিয়ানমার
পাকিস্তান ০-০ বাংলাদেশ অ: দল
পাকিস্তান ৩-০ মালদ্বীপ
পাকিস্তান ২-০ আফগানিস্তান
পাকিস্তান ২-০ আফগানিস্তান
পাকিস্তান ০-৪ থাইল্যান্ড
পাকিস্তান ২-২ ফিলিপাইন
পাকিস্তান ২-৪ ভিয়েতনাম
মালদ্বীপ 
মালদ্বীপ ২-১ পূর্ব তিমুর
মালদ্বীপ ০-১ আফগানিস্তান
মালদ্বীপ ০-৩ পাকিস্তান
মালদ্বীপ ১-১ বাংলাদেশ অ: দল
মালদ্বীপ ০-৩ চীন
মালদ্বীপ ০-৫ কিরগিজস্তান
মালদ্বীপ ০-৫ লেবানন
শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা ৩-১ চাইনিজ তাইপে
শ্রীলঙ্কা ৪-১ ভুটান
শ্রীলঙ্কা ৩-০ সেশেলস
শ্রীলঙ্কা ২-০ সেশেলস
ভুটান
ভুটান ২-১ ব্রুনাই
ভুটান ০-৪ কম্বোডিয়া
ভুটান ১-৪ শ্রীলঙ্কা