
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল
উচ্চকক্ষের গঠনপদ্ধতি ও ক্ষমতা, এমনকি এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বাড়ছে। যদিও নির্বাচনের আগে সব দলই তাদের ইশতেহারে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে একমত ছিল। সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ে উঠে আসা প্রস্তাবনায় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে এক দিকে যেমন টানাপড়েন দেখা দিয়েছে, অন্য দিকে জটিলতার মুখেও পড়েছে উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়াটি।
সূত্র মতে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এ স্বাক্ষর করার আগেই বিএনপি উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়সহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ছিল। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, তারা সরকার গঠন করলে উচ্চকক্ষ গঠন করবে। সেটি প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে নয়, আসন সংখ্যার ভিত্তিতে। যদিও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, একক রাষ্ট্রব্যবস্থার বাংলাদেশে দুই কক্ষের সংসদ আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, এমন বক্তব্য এসেছে। এটি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন কেউ কেউ। অন্য দিকে সংসদের বিরোধীদলীয় দল জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু দল প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন দাবি করছে। আবার উচ্চকক্ষ গঠন করবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। সেই সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সব মিলিয়ে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের প্রথম পরীক্ষাটি মূলত কোনো তাত্ত্বিক বিতর্ক নয়, এটি হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততার পরীক্ষা। সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধের দেয়াল হবে, নাকি রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কেন্দ্র ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় মাত্র হবে; তা নির্ভর করছে বর্তমান সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের যৌথ প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র মতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। ৬৮ শতাংশ ভোটার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সিল মেরেছেন। এতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনসহ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। জনগণ তাদেরকে দেশ পরিচালনায় ম্যান্ডেট দিয়েছেন। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে জাতীয় নির্বাচনে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। আবার জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এ স্বাক্ষর করার আগেই বিএনপি উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়সহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ছিল। সে কারণে চূড়ান্ত জুলাই সনদে বলা হয়, কোন রাজনৈতিক দল বা জোট নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে, তাহলে তারা সেই মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। যেহেতু বিএনপি আগে থেকেই নিম্নকক্ষে নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে, সে কারণে তারা এখন ইশতেহার অনুযায়ী দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে চাইছে।
সূত্র মতে, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্য, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে। জুলাই সনদ ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩০ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বাকিগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত পোষণ) রেয়েছে।
জানা গেছে, এই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ নির্ধারিত আছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি গত বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। সনদ বাস্তবায়নের গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠানের পর জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সংবিধান সংস্কার হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এতে আরো বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তফসিল-১ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। সংসদ সদস্যদের যিনি শপথ পড়াবেন, তিনিই পরিষদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন; অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে দু’টি শপথ হবে। কিন্তু শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের এই শপথ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা শপথ নিলেও সরকারি দলের সদস্যরা শপথ নেননি।
এ দিকে বিএনপি নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলে আসছে। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান তার বক্তব্যে ‘নোট অব ডিসেন্টে’র কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্য দিকে সংসদের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের চিন্তাকে নাকচ করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, এই প্রশ্নই তো আসে না। জুলাই সনদে নানা বিষয়ে নানা দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকার কারণেই তো গণভোট হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি একমত থাকত, তাহলে তো গণভোটের প্রয়োজন হতো না। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোট দিয়ে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র মতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিএনপি এককভাবে ২৯০ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত এককভাবে ২২৭ আসনে নির্বাচন করে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তবে জোটবদ্ধ ভোটের হিসেবে বিএনপি ৫১ শতাংশের বেশি ও জামায়াত-এনসিপি জোট ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আবার আসন সংখ্যার হিসেবে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত-এনসিপি জোট জিতেছে ৭৭টি আসন। এখন আসন সংখ্যার হিসাবে যদি জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা হয়, তাহলে বিএনপি জোট ১০০টির মধ্যে ৭০টি, জামায়াতে ইসলামী অন্তত ২৬টি, এনসিপি ২টি আসন পেতে পারে। এর বিপরীতে ভোটের আনুপাতিক হারের বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠন হলে বিএনপি জোটের আসন কমে হবে ৫২ থেকে ৫৩টি, আর জামায়াত জোটের অন্তত ৩৮টি।
জানতে চাইলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, এখানে একটা অস্পষ্টতা রয়েছে বলে বিএনপি দাবি করতে পারে। জুলাই সনদে যে নোট অব ডিসেন্স রয়েছে, সেটা মাইনোরিটি ভিউ। এরপর গণভোটে জণগণ সেটা অনুমোদন দিয়েছে, সেটা তাদের জন্য পালন করা একটা নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। কিন্তু যেটা বিএনপির চিন্তা করার দরকার তারা তো আর চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না এবং এরপরে ভবিষ্যতে এই ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। যেকোনো আইন সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে যারাই ক্ষমতায় আছে তাদেরকে তো চিন্তা করা উচিত, যে তারা যখন ক্ষমতায় থাকবে না তখন কী হবে? অতীতের হিসাব থেকে শিক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু সংবিধান সংস্কারের জন্য নিম্নকক্ষের তিন ভাগের দুই ভাগ এবং উচ্চকক্ষের মেজরিটি বিএনপির আছে, তাই তারা চাইলে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে। কিন্তু যদি ইনক্লুসিভ করতে হয়, শেখ হাসিনার আমলে যা ইচ্ছা তাই করেছে, বিরোধী দলের মতামত কিংবা অন্য দলের মতামত নিত না, বিএনপিও যদি এটি করে তাহলে আমাদের পুরনো অবস্থায় বিরাজ করবে। আশা করি আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সহনশীলতা, প্রজ্ঞা অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এগুলো প্রদর্শন করবে।
জানা গেছে, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করার ক্ষমতা থাকবে না। তবে নিম্নকক্ষে পাসকৃত অর্থবিল ছাড়া সব বিল উভয় কক্ষে উপস্থাপিত হতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকাতে পারবে না। উচ্চকক্ষ কোনো বিল দুই মাসের বেশি আটকে রাখলে, তা উচ্চকক্ষ দ্বারা অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল অনুমোদন করলে তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল প্রত্যাখ্যান করে সংশোধনের সুপারিশসহ বিল পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্নকক্ষে পাঠাতে পারবে। নিম্নকক্ষ উচ্চকক্ষের প্রস্তাবিত সংশোধনগুলো সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। নিম্নকক্ষে পরপর দু’টি অধিবেশনে পাসকৃত বিল যদি উচ্চকক্ষ প্রত্যাখ্যান করে এবং নিম্নকক্ষ যদি এটি আবারো পরবর্তী অধিবেশনে পাস করে, তবে উচ্চকক্ষের অনুমোদন ছাড়াই বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো যাবে। সাধারণ বিলে উচ্চকক্ষের সম্মতির বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সংবিধান সংশোধন বিলে উচ্চকক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বর্তমান বিশেষ সংসদীয় কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা বেশ স্পষ্ট। সরকার মূলত জুলাই সনদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে এগোতে চায়। অতীতে একক কক্ষবিশিষ্ট সংসদে একটিমাত্র দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যেভাবে একচ্ছত্র বা স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা চর্চা করেছে, উচ্চকক্ষ গঠনের মাধ্যমে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে চায় সরকার। উচ্চকক্ষটি নিম্নকক্ষে যে দল যতটি আসন বা সংসদ সদস্য পেয়েছে, সেই অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে; যাতে আইনসভার দুই কক্ষের মধ্যে একধরনের যৌক্তিক সমন্বয় থাকে। পাশাপাশি বিএনপি নেতারা মনে করেন, উচ্চকক্ষকে এমন কোনো ক্ষমতা দেয়া ঠিক হবে না, যা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নিম্নকক্ষের বা সরকারের দৈনন্দিন কাজে স্থবিরতা তৈরি করে।
জামায়াতে ইসলামী, গণফোরাম ও অন্যান্য বাম-ডানপন্থী দল জুলাই সনদের মূল রূপরেখা অর্থাৎ পিআর পদ্ধতিতেই উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে সোচ্চার। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হলে আইনসভায় বহুত্ববাদ ও ক্ষমতার প্রকৃত ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি। পিআর বা আনুপাতিক ভোট পদ্ধতি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকেও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলার সুযোগ করে দেবে। জুলাই সনদে যে জাতীয় ঐকমত্য হয়েছিল, সেখান থেকে এখন বড় দলগুলোর পিছিয়ে যাওয়া জনগণের ম্যান্ডেটের সাথে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করছেন তারা।
সম্প্রতি মিডিয়াব্যক্তিত্বদের সাথে মতবিনিময় শেষে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, একক রাষ্ট্রব্যবস্থার বাংলাদেশে দুই কক্ষের সংসদ আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, এমন বক্তব্য এসেছে। এটি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন কেউ কেউ। কেউ কেউ বলেছেন, এখন পর্যন্ত এক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ করা হলে কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এটি করলে রাষ্ট্রের খরচও বাড়বে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে ঐকমত্য হয়েছিল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে। বিশেষ কমিটি সেভাবেই এগোতে চায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দিকে জনগণের সংস্কারমুখী আকাক্সক্ষা, অন্য দিকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদীয় ম্যান্ডেট- এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, এর কার্যকারিতা এবং এর সদস্য নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি মেলবন্ধন প্রয়োজন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








