হুমকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বসতঘর ও ফসলিজমি
বারবয়লায় ফসলি জমি ভেঙে পড়ছে নদীতে : নয়া দিগন্ত।

মুহাম্মদ আবদুল হাই চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)  
সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও টাঙ্গাইলের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যমুনা তীর রক্ষা বাঁধের অন্তত তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৩৫০ মিটার এলাকায় ভাঙনে কয়েকটি বসতভিটা, সবজিক্ষেত ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন অব্যাহত থাকায় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বহু বসতবাড়ি এখন ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের পূর্বপ্রান্তের বারবয়লা থেকে বোয়ালকান্দি পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে নদীর তীরে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বসতভিটা হারানো পরিবারগুলো ঘরের চালা, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে চৌহালী-টাঙ্গাইল যমুনা নদীর তীর রক্ষায় ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি যমুনার পানি কমতে থাকায় নদীর তীব্র স্রোতে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়। গত এক সপ্তাহে ভাঙনের পরিমাণ এতোটাই বেড়েছে যে নদী পাড়ের মানুষদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি বসতভিটা নদীতে ভেঙ্গে পড়ায় আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না হলে আরো ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাঁধ নির্মাণের পর তারা নদীভাঙনের আতঙ্ক থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাঁধেই ভাঙন শুরু হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোসহ বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জেলহক আলী বলেন, যমুনার ভাঙন চরাঞ্চলের মানুষের পিছু ছাড়ছে না। ১১৩ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে প্রায় সাড়ে ৩৫০ মিটার ভেঙে গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভাঙন রোধে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে এখন আর টানাপড়েনের সুযোগ নেই। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে ভাঙন এলাকা তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাখিল রায়হান বলেন, ভাঙন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে কাজ করেছে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। টাঙ্গাইলের সীমান্তবর্তী হুঘরা এলাকার ভাঙনের বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Advertisement