হিজবুল্লাহর সাথে বৈঠকের খবর তুরস্ক-সিরিয়ার অস্বীকার

  রয়টার্স

Advertisement

লেবাননের হিজবুল্লাহ ও নতুন সিরীয় সরকারের মধ্যে তুরস্কের মধ্যস্থতায় বৈঠক অনুষ্ঠানের খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ অ্যাখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক ও সিরিয়া। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাশার আল-আসাদকে সামরিক মদদ দেয়া লেবাননের প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ ও আসাদ-উত্তর নতুন সিরীয় সরকারের অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত প্রশমনে তুরস্কে এক নজিরবিহীন রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর প্রকাশ করে রয়টার্স। তবে পুরো বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ অ্যাখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক ও নতুন সিরীয় প্রশাসন।
২০২৪ সালের শেষলগ্নে আসাদ শাসনের পতন ঘটলে আহমদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সিরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে হিজবুল্লাহর সম্পর্কের মারাত্মক অবক্ষয় ঘটে। দামেস্কের সরাসরি অভিযোগ, তাদের সীমান্ত অঞ্চল কাজে লাগিয়ে লেবাননে অবৈধ উপায়ে সামরিক অস্ত্র চোরাচালান অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ। অপরপক্ষে, হিজবুল্লাহর মতে সিরীয় সামরিক বাহিনীকে লেবাননের অভ্যন্তরে সৈন্য পাঠিয়ে হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান জোরদারে অনবরত উসকানি জুগিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। এই জটিল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা অস্থিরতা এড়াতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নেয় তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, তুর্কি কর্তৃপক্ষের বিশেষ আমন্ত্রণে গত মাসে সিরিয়ার গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে এই গোপন আলোচনা সম্পন্ন হয়।
বৈঠক সূত্রের দাবি, আলোচনায় উভয় পক্ষই একমত হয় যে ইতিহাস কিংবা সামরিক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে পারস্পরিক চরম কোনো শত্রুতা নেই। সেখানে নতুন সিরীয় সরকারের প্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে তারা নিজেরা কোনো সরাসরি সামরিক অভিযান বা আগ্রাসী হস্তক্ষেপ চালাবে না। এর বিনিময়ে লেবানন সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রের প্রভাব বন্ধ রাখা এবং সিরিয়ার ভূখণ্ডে- বিশেষত দক্ষিণ ফ্রন্টে-হিজবুল্লাহর লুকিয়ে থাকা অবশিষ্টাংশের গোপন নেটওয়ার্কগুলো গুটিয়ে নিতে দামেস্ককে পূর্ণ সহায়তার অনুরোধ জানান তারা। হিজবুল্লাহর তরফ থেকে নতুন সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মাথা না ঘামানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ ও নিজেদের গোপন অবকাঠামো পুরোপুরি তুলে নেয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ ছাড়া লেবাননের ভেতর প্রবেশ করে সিরীয় বাহিনী যেন পেছন থেকে হামলা না চালায়, সেই নিরাপত্তা গ্যারান্টি দাবি করেছে তারা।
রয়টার্সের এই বিস্ফোরক খবর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তা তীব্র ভাষায় নাকচ করে দেয় আঙ্কারা ও দামেস্ক। তুরস্কের রাষ্ট্রপতির যোগাযোগের দফতর থেকে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম এক্সে জানানো হয়, বৈঠকের সময়সূচি, স্থান বা আলোচনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য কেবলই অসত্য ও কল্পনানির্ভর। একই সুরে সংবাদটির সত্যতা অস্বীকার করে একে ‘বানোয়াট মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছে নতুন সিরীয় সরকার। খবরে উল্লেখ করা হয়, হিজবুল্লাহর মূল অর্থ ও নীতি সংস্থানকারী রাষ্ট্র ইরান ওই বৈঠকের বিষয়টি জানলেও আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে তেহরানকে সরাসরি যুক্ত করেনি তুরস্ক। অন্য দিকে, নতুন সিরীয় প্রধান আহমদ আল-শারাও এই মুহূর্তে ইরানের সাথে কোনো সরাসরি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী নন। প্রধান অভিভাবক ইরানের সরাসরি অনুপস্থিতি ও অসন্তোষের কারণে বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত সমঝোতা বা প্রকাশ্য ঘোষণায় যাওয়া এড়িয়ে গেছে পক্ষগুলো।