
শাহেদ মতিউর রহমান
হাতে চক-ডাস্টার নিয়ে শিক প্রস্তুত, নতুন পাঠ্যবই আর কাসরুম ভরে উপস্থিত নবীন মুখগুলোÑ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও থমকে আছে একাদশের গুরুত্বপূর্ণ দুই বিষয়ের পাঠদান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে একাদশ শ্রেণীর কাস শুরু হলেও এনসিটিবির লেজেগোবরে দশা ও সিদ্ধান্তহীনতায় বাংলা ও ইংরেজির মতো বাধ্যতামূলক দুই বিষয়ের মূল পড়া শুরুই করতে পারছেন না শিার্থীরা। সিলেবাস আর নম্বর বণ্টন না পেয়ে কাসে ঢুকে কী পড়াবেন, তা ভেবে দিশেহারা খোদ শিকরাও।
জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই শিার্থীদের হাতে আগেই পৌঁছেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বাংলা বিষয়ের সিলেবাস চূড়ান্ত করেনি বোর্ড। ফলে আপাতত বাংলা বিষয়ের পাঠদান স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন শিকরা।
অন্য দিকে ইংরেজি বিষয়ে পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় বা কনটেন্ট পড়ানো শুরু হলেও এর প্রশ্নকাঠামো ও নম্বর বণ্টন বদলে যাবে কি নাÑ তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শিাবর্ষের শুরুতেই এমন স্থবিরতায় কলেজগুলোতে তীব্র ােভ প্রকাশ করছেন শিকমণ্ডলী ও অভিভাবকেরা।
কলেজ শিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে এমনিতেই পাঠদানের জন্য নির্ধারিত সময় অনেক কম মেলে। এর ওপর শিাবর্ষের শুরুতে সিলেবাস না পেলে সিলেবাস শেষ করার জন্য শেষ সময়ে শিক-শিার্থী উভয়কেই চড়ামূল্যে মাশুল দিতে হয়। সময়মতো সিলেবাস শেষ না হওয়ায় অনেক শিার্থী শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ে।
এনসিটিবির এমন উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতা নতুন কিছু নয় বলে অভিযোগ শিকদের। তাদের দাবি, গত বছরও কাস শুরুর দীর্ঘ ছয় মাস পর বাংলা বিষয়ের সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছিল। এর ফলে আসন্ন এইচএসসি পরীার্থীদের বাংলা বিষয়ের ফলাফলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছরই ইংরেজি বিষয়ে হুটহাট নম্বর বণ্টন ও প্রশ্নকাঠামো পরিবর্তনের কারণে শিার্থীরা অনুশীলন করার পর্যাপ্ত সময় পায় না।
শিাবিদদের মতে, এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কমকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই আজ লাখো শিার্থী ও শিকের এই অনিশ্চয়তা। শিা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নজরদারি এবং এনসিটিবি কর্তৃপরে সদিচ্ছা থাকলে কাস শুরুর আগেই সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশিত হতে পারত।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে এনসিটিবির সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক ড. এ কে এম শওকত আলী খান নয়া দিগন্তকে বলেন, সিলেবাস চূড়ান্ত করতে আমাদের কিছুটা বিলম্ব হয়েছে সত্য, তবে এতে কাসের কার্যক্রমে তো ব্যাঘাত ঘটার কথা নয়। কারণ পূর্বের সিলেবাসের আলোকেই মূলত পড়াশোনা চলে, এতে তেমন একটা পরিবর্তন আসে না।
তিনি আরো জানান, আজই (গতকাল বৃহস্পতিবার) বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ও ইংরেজির নম্বর বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করে বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের শুরুতেই সবাই তা হাতে পেয়ে যাবেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








