রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতে মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদ ছাত্রশিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ভারতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিমদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন, ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, মাদ্রাসা ও ওয়াকফ সম্পত্তি ধ্বংস এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গত বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উচ্ছেদ ও সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাতে শতাব্দীপ্রাচীন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শত শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ যেভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। এ উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসলিমদের প্রতিবাদকে প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ, দমন-পীড়ন ও গ্রেফতারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা বলেন, ভারতের উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো একাধিক রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক নির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার যে ‘বুলডোজার নীতি’ কার্যকর করা হচ্ছে, তা ভারতের নিজস্ব ধর্মনিরপে সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে ভারতের প্রায় ২১ কোটি মুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সামাজিক ও আইনি প্রান্তিককরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে মুসলিমদের নাগরিকত্ব, ধর্মীয় অধিকার ও ওয়াকফ সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিতর্কিত আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক নাগরিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতাও সঙ্কটের মুখে। প্রকাশ্য স্থানে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, পোশাকের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং গবাদি পশু পরিবহন বা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে হামলা ও গণপিটুনির মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনক।
ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষের কারণে কর্মত্রে ও আবাসন সুবিধা পাওয়ার েেত্রও মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কোনো কোনো েেত্র পপাতমূলক আচরণের কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায্য আইনি প্রতিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।