
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক পরিচয় ও নামের অদ্ভুত বিভ্রাটের শিকার হয়ে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে (স্বাস্থ্য) চূড়ান্ত সুপারিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার পরও ক্যাডার পদের গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী ডেন্টাল সার্জন ডা: নাহিদুর রহমান। স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার নামের সাথে মিল থাকায় প্রথম দফায় পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক রিপোর্ট আসে। পরবর্তীতে পুলিশ ভুল শুধরে সম্পূরক প্রতিবেদন দিলেও এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) রিভেরিফিকেশনে তার পে মতামত দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখনো তার নিয়োগ ঝুলিয়ে রেখেছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীা অনুষ্ঠিত হয়। ফল প্রকাশের পর পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) তিন হাজার ১২০ জন চিকিৎসককে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ করে, যার মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন ছিলেন ৩০০ জন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা কয়েকজন চিকিৎসক বাদ পড়েন। মূলত নামের মিলের কারণে ডা. নাহিদ ও তার সহপাঠী সিরাজাম মুনিরা বাদ পড়েছিলেন। পরবর্তীতে সিরাজাম মুনিরা আবেদন করে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ পেলেও ডা. নাহিদের ফাইলটি এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখায় আটকা রয়েছে।
ডা. নাহিদুর রহমান জানান, আন্দোলন চলাকালে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অথচ শুধু নামের মিলের কারণে ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে তাকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি বলেন, ‘পুলিশ পরবর্তীতে প্রতিবেদন সংশোধন করলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এনএসআইকে আবার তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এনএসআই আমার বিষয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট দিলেও আমাকে চূড়ান্ত গেজেটভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া আমার মা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং ভেরিফিকেশনের সময় বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ায় রাজনৈতিক কারণেও হয়তো বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।’
সহযোদ্ধা ডা. আজিজুল ইসলাম বিষয়টিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধার প্রতি এ ধরনের আচরণ অনাকাক্সিক্ষত। গোয়েন্দা সংস্থার ইতিবাচক প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও নাম ও পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে একজন যোগ্য চিকিৎসককে নিয়োগবঞ্চিত করা মানা যায় না।’
গত ২৫ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাদ পড়া ১৮৪ জন চিকিৎসককে আবার ভেরিফিকেশনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয় সরকার এবং বর্তমানে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এনএসআইয়ের পুনর্তদন্তে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও ডা. নাহিদুর রহমানের গ্যাজেট প্রকাশ না করায় তার সতীর্থ ও জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের মাঝে তীব্র ােভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








