
ক্রীড়া ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথমটিতে হারতে হারতে শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ব্রাজিল। এরপর দলের নতুন শুরু নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি। তবে সব সমালোচনা পাশ কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেও দল নিয়ে চালান পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তবে এবার আর হতাশ করেননি তার শীর্ষরা। দ্বিতীয় প্রীতিম্যাচে গতকাল অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জয়েই সফর শেষ করল ব্রাজিল। ভেন্ডারসন, রাফিনহা, ব্রুনো গুইমারাসের ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এই গোলে ছিল সেলেকাওদের চিরচেনা ছন্দ। ডি বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে পেয়ে আড়াআড়ি শটে জাল খুঁজে নেন ভেন্ডারসন। শুরুতেই গোল হজম করলেও পথ হারায়নি টনি পপোভিচের দল। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে ২৮ মিনিটে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। ডি বক্স থেকে জোরাল ভলিতে জাল খুঁজে নেন আলেসান্দ্রো চিরকাতি। এর ৫ মিনিট আরো বড় চমক দেখায় সকারুজরা। বক্সের বাইরে থেকে কনর মেটক্যালফের বুলেট গতির শট আশ্রয় নেয় জালে। কিছুই করার ছিল না ব্রাজিল গোলরক্ষক ওতাভিওর। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সফল স্পট কিকে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমতা ফেরান রাফিনহা। ঠিক দিকে ডাইভ দিয়েও বার্সেলোনা অধিনায়কের গতিময় শট ঠেকাতে পারেননি স্বাগতিক গোলরক্ষক। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-২ গোলের সমতায়।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আরো সংগঠিত হয়ে আক্রমণে ওঠে এবং মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে ব্রাজিল। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে একটি ট্যাকল নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়রা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন রেফারিরা। ৫ মিনিট পর চমৎকার পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এন্দ্রিকের দারুণ কাটবথ্যাকে বল পেয়ে খুব কাছ থেকে জালে জড়িয়ে দেন গুইমারাস। এরপর ব্রাজিলের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ভিনিসিয়াস একাধিকবার বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তৈরি করেন। ৮০ মিনিটে তাকে ডি-বক্সে ফাউল করা হলে আবার পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। সফল স্পট কিকে বথ্যবধান বাড়ান ভিনিসিয়াস। রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গারকে নেস্টরি ইরানকুন্ডা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। শটে গতি কম থাকলেও প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করায় পোস্ট ঘেঁষে জালে যাওয়া বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক। বাকি সময়ে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
এই ম্যাচে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় ছিল প্রথম ম্যাচের তুলনায় আক্রমণভাগের কার্যকারিতা। পাঁচ দিন আগে টাউনসভিলে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করেছিল। সেই ম্যাচে ৯৫ মিনিটে রায়ানের গোলে হার এড়িয়েছিল ব্রাজিল। এবার অবশ্য প্রথমে এগিয়ে যাওয়ার পর ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল কার্লো অ্যানচলোত্তির শীর্ষরা।









