রিজার্ভ ফুটবলার সঙ্কটে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
জর্দানের বিপক্ষে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে আগেই দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। দুই খেলাতেই জয়। প্রথম ম্যাচে ৫-০ গোলে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০তে বিজয়ের হাসি। মধ্য প্রাচ্যের দেশটিতে মেঘলা রানী, আলপি আক্তারদের যাওয়াটা ছিল এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের বাছাইয়ের প্রস্তুতির জন্য। যে বাছাই পর্ব ৫ অক্টোবর থেকে উজবেকিস্তানের তাশখন্দে শুরু হবে। চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। এইচ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান ও ফিলিপাইন। গ্রুপের খেলা ৫ তারিখে শুরু হলেও বাংলাদেশের খেলা ৮ ও ১১ অক্টোবর। উদ্বোধনী ম্যাচের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও ফিলিপাইন। ফলে আলপিদের আগে ভাগে দেখার সুযোগ হবে দুই দলের খেলা। তবে সাইফুল বারী টিটুর দলের বড় সমস্যা, স্কোয়াডের রিজার্ভ বেঞ্চে পর্যান্ত মানসম্পন্ন খেলোয়াড় নেই। শেষ পর্যন্ত জর্দানের বিপক্ষে এই দুই জয় লাল-সবুজ নারীদের জন্য কতটা কাজে দেবে তা সময়ই উত্তর দেবে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলে প্রথম বড় সাফল্য অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে। ২০১৪ সালে ঢাকায় তারা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাই পর্বে ১-০তে হারিয়েছিল জর্দানকে। এরপর ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো বাছাই পর্বে গ্রুপ সেরা হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হওয়া। ২০১৯ সালে প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে ফাইনাল রাউন্ডে যাওয়া। তবে ২০২৩  ও ২০২৫ সালে আর চূড়ান্ত পর্বে খেলা হয়নি। প্রথমবার দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে এবং পরেরবার প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়া।
গত বছর জর্দানের মাঠে বাংলাদেশ কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি। প্রথম খেলায় স্বাগতিকদের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ০-৪ গোলে হার চাইনিজ তাইপের কাছে। অথচ জর্দান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দল দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিরিয়ার বিপক্ষে। দুই ম্যাচেই সহজ জয়। তবে দুর্বল এই দুই দলের বিপক্ষে জয়ের অভিজ্ঞতা কোনো কাজেই লাগেনি জর্দানের মাঠে। তাই প্রশ্ন এবার জর্দানের বিপক্ষে পাওয়া দুই সহজ জয় কি উপকারে লাগবে উজবেকিস্তানের মাঠে। কোচ সাইফুল বারী টিটু বাছাই পর্ব উৎরানোর আশাই শোনালেন। 
কোনো কোচই পরাজিত হওয়া বা ভালো টার্গেট ছাড়া কোনো আসরে যান না। তবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের রিজার্ভ বেঞ্চে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের সঙ্কট ভীষণ ভাবাচ্ছে টিটুকে। জানান, ‘এবারের  এই দলে রিজার্ভ বেঞ্চটা তেমন পোক্তা নয়। যা ছিল মণিকা-মারিয়ারা যখন বয়সভিত্তিক দলে ছিল।’ মণিকা-মারিয়াদের সময় নারী ফুটবলের বয়সভিত্তিক দলের রিজার্ভ বেঞ্চ যথেষ্ট ভালো ছিল তা ২০১৮ সালেই বলেছিলেন ভিয়েতনামের কোচ। সেবার বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, যা তাদের নিয়ে যায় মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডে। তখন ভিয়েতনামের কোচের বক্তব্য ছিল, আমরা ভাবতে পারিনি বাংলাদেশ দলের প্রত্যেকটি খেলোয়াড় যে এতটা ভালো। মূল একাদশ ও রিজার্ভ বেঞ্চ সবই দারুণ স্কিলফুল।
 মণি কা, মারিয়া, শামসুন্নাহারদের পর আর বাংলাদেশ দল অনূর্ধ্ব-১৬-১৭ বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারেনি। অথচ এই ফুটবলারদের মাসের পর মাস বাফুফে ভবনে রেখে ট্রেনিং করানো হয়। সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে নারী ফুটবল। জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। অথচ এখন যদি মানসম্পন্ন ২৩ ফুটবলারকে স্কোয়াডে জায়গা নিতে না পারে তাহলে সেটা খুবই দুখঃজনক। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি সেভাবে খেলোয়াড় উঠে আসছে না। সারা দেশে যেসব নারী ফুটবল অ্যাকাডেমিগুলো আছে, সেখানে আসলে কি শেখানো হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, এই অ্যাকাডেমিগুলো নারী ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি সারা দেশে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলে বেড়ায়। এতে ফুটবলাররা কিছু টাকা পাচ্ছেন ঠিকই; কিন্তু বাজে মাঠ এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম মারাত্মক ক্ষতি করছে তাদের। আনসারের কোচ সু হ্ল লা মং জানান, নারী ফুটবলাররা এই খ্যাপের ফুটবল নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে তাদের শিডিউলই পাওয়া যায় না।
রিজার্ভ বেঞ্চে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের সঙ্কটের পরও টিটু স্বপ্ন দেখছেন দলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করানোর। জানান, ‘আমরা প্রথমে উজবেকিস্তান ও ফিলিপাইনের ম্যাচ দেখতে পারব। এতে দুই দল সম্পর্কে জানা যাবে।’ তবে দল দু’টি যে বাংলাদেশ দলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে তা নিশ্চিত। কারণ উজবেকিস্তান ভারতের সাথে দুই ম্যাচ খেলে দু’টিতেই ড্র করেছে। আর ফিলিপাইন ৪-২ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। গতকালই দুই দলের আরেকটি ম্যাচ ছিল।

Advertisement