
মো: জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে পণ্য বিক্রি, ওজনে কম দেয়া, কার্ড ছাড়াই পণ্য বিতরণ এবং মানহীন পণ্য দেয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সুবিধাভোগী। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার দুপুরে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কুটিরঘাট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মেসার্স চওড়া ট্রেডার্সের পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়। সেখানে ৪৩৫ টাকার প্যাকেজে দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, দুই লিটার সয়াবিন তেল ও একটি গোসলের সাবান বিক্রি করা হচ্ছিল। তবে বিক্রয়কেন্দ্রে প্রশাসনের নিয়োগ করা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছিল না। সন্ধ্যায় কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্তও তাকে দেখা যায়নি।
ক্রেতাদের কয়েকটি প্যাকেজের পণ্য স্থানীয় একটি দোকানে ওজন করে দেখা যায়, চিনির পরিমাণ ১০ থেকে ২০ গ্রাম এবং মসুর ডাল ১০০ থেকে ১২০ গ্রাম পর্যন্ত কম রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নজু আলী বলেন, ‘প্রতিবারই ওজনে কম দেয়া হয়। অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এবার মসুর ডাল ১২০ গ্রাম কম পেয়েছি। তেল ও চিনিও কম আছে।’
৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিমুদ্দিন অভিযোগ করেন, পণ্য কম দেয়ার কথা বললে ডিলারের পক্ষ থেকে বিরূপ আচরণ করা হয়। তার দাবি, কার্ড না থাকা ব্যক্তিদেরও প্যাকেজ দেয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি এক স্কুলশিক্ষককে দেখিয়ে দাবি করেন, ওই ব্যক্তি কার্ড ছাড়াই পণ্য নিয়েছেন।
কার্ড ছাড়া পণ্য নেয়ার বিষয়টি ওই শিক্ষক (ছদ্মনাম রবিউল) স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি ছাড়াও অনেকেই কার্ড ছাড়া টিসিবির পণ্য পান। তবে ওজনে কম দেয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘ডিলাররা এভাবে না দিলে অন্যদের কিভাবে দেবে?’
৫ নম্বর ওয়ার্ডের মালেক অভিযোগ করেন, আগে কোম্পানির প্যাকেটজাত ডাল ও চিনি দেয়া হলেও বর্তমানে স্থানীয়ভাবে পলিথিনে প্যাকেট করে পণ্য দেয়া হচ্ছে। এতে পণ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।
একই এলাকার আনজুম নামের এক সুবিধাভোগী বলেন, ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি তারা জানলেও প্রতিবাদ করতে ভয় পান। তার আশঙ্কা, অভিযোগ করলে কার্ড বাতিল বা পরবর্তী সময়ে পণ্য না দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।









