
ক্রীড়া প্রতিবেদক
একটা সিদ্ধান্তে জট খোলার পর আরেকটা প্রশ্নে আরো জটিল হয়ে গেল। টি-২০ নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়া নিগার সুলতানা জ্যোতি ওয়ানডেতে থাকছেন এটা এখন নিশ্চিত! কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সফরে তার পাশে ড্রেসিংরুমে প্রধান কোচ হিসেবে কে থাকবেন, সেই উত্তর অনিশ্চিত। এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতার পর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে মাঠের বাইরের উত্তাপ যেন আরো বাড়ল! বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে যেন একই সাথে দুই রকমের গল্প। একদিকে নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কেটে গেছে। অন্য দিকে কোচকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন অস্বস্তি!
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে জ্যোতির নেতৃত্বের পরবর্তী অধ্যায় যেমন পরিষ্কার হবে, তেমনি সারওয়ার ইমরানকে ঘিরে চলতে থাকা নাটকেরও পর্দা নামতে পারে। আপাতত জ্যোতির হাতে নেতৃত্বের চাবি থাকলেও ড্রেসিংরুমের কোচের চেয়ারটিই হয়ে আছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন!
এশিয়ান গেমস থেকে ফেরার পর গতকাল নারী দলের ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠকে বসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা ছিলেন। দলের সাম্প্রতিক সমস্যা, শৃঙ্খলা এবং সামনে কিভাবে আরো ভালো করা যায়Ñ এসব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সামনে আসে নেতৃত্ব ও কোচিংয়ের প্রসঙ্গ।
সেখানেই জ্যোতিকে নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান ঘটান রফিকুল ইসলাম বাবু। টি-২০ নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও ওয়ানডেতে জ্যোতিই থাকছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তার হাতেই থাকবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব। রফিকুল বলেন, ‘আমি ঘোষণা করেছি, তুমি অধিনায়ক থাকছো। অস্ট্রেলিয়া সফরেও তুমি অধিনায়ক হিসেবেই যাবে।’
একটি দরজা বন্ধ হলেও জ্যোতির নেতৃত্বের গল্প পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তার ওপরই আস্থা রাখছে বোর্ড। ২০২১ সাল থেকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া জ্যোতিই এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়াবেন। কিন্তু জ্যোতির নেতৃত্বের নিশ্চয়তার পরপরই গল্পের মোড় ঘুরে যায় কোচ সারওয়ার ইমরানের দিকে।
এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে ৩১ রানে হারের পর দলের কোচিং কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন সারওয়ার। তার বক্তব্য ছিল, টুর্নামেন্টের মধ্যে কোচ ও অধিনায়ককে নিয়ে পরিবর্তনের আলোচনা দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সেই মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি বিসিবি। কোচকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে বোর্ড।
এবার রফিকুল ইসলাম বাবুর ভাষায় সেই ক্ষোভ আরো স্পষ্ট, ‘কোচ কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন। আমার মনে হয়, তিনি আচরণবিধির সীমা অতিক্রম করেছেন এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছেন। বিসিবির সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা অবস্থায় তিনি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।’
অস্বস্তির জায়গাটা এখানেই। কারণ অস্ট্রেলিয়া সফর দরজায় কড়া নাড়ছে। আগামী ৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ নারী দলের। তার আগে আজ ঘোষণা হওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়া সফরের দল ও টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে সারওয়ার ইমরানকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তখনই স্পষ্ট হতে পারে। বিসিবি জানিয়েছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি!
এর মধ্যে জ্যোতির টি-২০ নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বোর্ডের অস্বস্তি আছে। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে বা চলাকালে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বোর্ডের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন নারী বিভাগের চেয়ারম্যান। রফিকুল বলেন, ‘অন্তত চেয়ারম্যানের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করতে পারতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে হয়তো হতাশা থেকে সে অধিনায়কত্ব ছেড়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাদের সাথে কথা বলা উচিত ছিল।’
জ্যোতির সাথে বোর্ডের সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। টি-২০-এর নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে হতাশা ছিল বিসিবির। কিন্তু সেই জট ওয়ানডেতে এসে থেমেছে। বরং অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির নামই নিশ্চিত করেছে বোর্ড। এখন প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সফরের আগে নেতৃত্বের প্রশ্নের উত্তর মিললেও কোচিং কাঠামো কি স্থির থাকবে? ক্রিকেটারদের আপাতত মাঠের দিকে মনোযোগ দেয়ার বার্তা দিয়েছে বিসিবি। রফিকুল বলেন, ‘আমরা তাদের উৎসাহের কথা বলেছি। আমরা চাই তারা ভালো খেলুক। তারা যত উন্নতি করবে, একসময় সব দলকেই হারাতে পারব।’









