আন্তর্জাতিক আইনে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে : জবিতে রাষ্ট্রদূত

জবি সংবাদদাতা

Advertisement

আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। ইরানে হামলার জন্য জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ কোনো অনুমোদন দেয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, বিশ্ব গণতন্ত্র, নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ফারসি ভাষায় দেয়া তাঁর বক্তব্য পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়।
সেমিনারে বক্তাদের ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান এবং ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ইরানের জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুধু সামরিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এর সাথে গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। তার ভাষ্য, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে অনেক সময় যুদ্ধের ঘটনাগুলো একপেশেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইল- কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নেয়া সাংবাদিকতার কাজ নয়। সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
জাতিসঙ্ঘ সনদের ৫১ ও ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদে আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। ইরান নিজেদের দেশ ও জনগণকে রক্ষায় সেই অধিকার প্রয়োগ করছে।
অনুচ্ছেদের ৪২ নং ধারার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কোনো রাষ্ট্র হুমকি সৃষ্টি করলে নিরাপত্তা পরিষদ বলপ্রয়োগের অনুমোদন দিতে পারে। তবে ইরানে হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ এমন কোনো অনুমোদন দেয়নি। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ধরে নিন, আমরা সবাই সন্ত্রাসী। ইরানের শিক্ষার্থীরাও সন্ত্রাসী। তারপরও কি যুদ্ধের কোনো আইন থাকবে না? বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা করা কি বৈধ? হাসপাতাল কিংবা শিশুদের ওপর হামলা কি বৈধ?’ সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।