
নানিয়ারচর (রাঙ্গামাটি) সংবাদাতা
দক্ষিণ সুদানে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল দুপুরে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার নিজ গ্রাম রামহরি পাড়ায় বৌদ্ধধর্মীয় রীতি ও যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা, বুড়িঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা, ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান অমল কান্তি চাকমাসহ স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। পরে লাশে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর অবসরপ্রাপ্ত সশত্র বাহিনী কল্যাণ পরিষদ, মহাপূরম উচ্চবিদ্যালয় ও নৌবাহিনীতে কর্মরত পাহাড়ের সব সদস্যের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া হয়। পরে ট্রোম্যান খীসার স্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও জাতিসঙ্ঘের পতাকা, ক্যাপ ও মেডেল তুলে দেয়া হয়। এর আগে তার লাশ এলাকায় পৌঁছালে স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুদানে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন বাংলাদেশ ফোর্স মেরিটাইম ইউনিট ব্যানএফএমইউ-১১-এ দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন ট্রোম্যান খীসা। পরে তাকে ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তার অবদানের কথা স্মরণ করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের পক্ষে বিশেষ প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধানও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ট্রোম্যান খীসার ১৯৮৭ সালের ১৩ জুন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার রামহরি পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ১ জুলাই নাবিক হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








