
সংসদ প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধনের নামে যেন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন জনগণের মতামত ছাড়া চূড়ান্ত না হয়- এমন বক্তব্য উঠে এসেছে সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাথে বিশেষ কমিটির বৈঠকে। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে আবারো গণভোটের বিধান রাখা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সাথে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। একইসাথে সরকারি নিয়োগে বৈষম্য দূর করে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জাতীয় ঐকমত্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সাথে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে সংবিধানের সম্ভাব্য সংশোধন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত নেয়া হয়।
বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো: মাহমুদুল হক রুবেল অংশ নেন।
বৈঠকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মু: আলী, দেশ রূপান্তর সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, নিউ এইজ সম্পাদক নুরুল কবীর, দৈনিক কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহসহ গণমাধ্যমের ২৮ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. রিজওয়ান-উল আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিক এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, সংবিধানের কিছু মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধানে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে গণভোটের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে বলে কমিটি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে করার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকসূত্র জানায়, আলোচনাকালে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়েও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ব্যবস্থা সহজে বাতিল করা না যায়, সে জন্য সংবিধানে বিষয়টি কঠোরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রেও সব ধরনের বৈষম্য দূর করে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সরকারি নিয়োগে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে সাম্প্রতিক গণভোটের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় ওই গণভোটকে মূলত প্রক্রিয়াগত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গণভোটের অধ্যাদেশ পাস না হলেও এর মূল চেতনা এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কথা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এর বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।








